চার মাসে ১৭৮ ধর্ষণ ও ৬২ দলবদ্ধ ধর্ষণ, উদ্বেগ বাড়ছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৭৭৬ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক, অপহরণ, পাচার ও সাইবার অপরাধ—সব ক্ষেত্রেই ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মোট ২,৮০৮টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে শুধু ধর্ষণের শিকার হয় ৭৮৬ জন (এর মধ্যে অধিকাংশই কন্যাশিশু)। চলতি বছরের মাত্র চার মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭৮ জন, এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬২টি।
হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি–এপ্রিল সময়ে ১৯১ জন নারী ও কন্যা হত্যার শিকার হয়েছে এবং ৭৩ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে বিচারহীনতা, সামাজিক নীরবতা, প্রভাবশালীদের চাপ, দীর্ঘসূত্র মামলা, অনলাইন অপরাধের বিস্তার এবং পারিবারিক–সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, কন্যাশিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার ও সমাজের ভেতরেই তারা নিরাপদ নয়। দ্রুত বিচার, আইন প্রয়োগের কঠোরতা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনায় কন্যাশিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের পরিবেশ এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও তারা নিরাপদ নয়। তার মতে, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক সংকট।























