ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মিছিলটি ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নারী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানায়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ‘ধর্ষকের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষণ করে, প্রক্টর কী করে?’ এবং ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’— এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম-এর পদত্যাগ, প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহি, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বলেন, “আমরা সবসময় এই ক্যাম্পাসকে নারীদের জন্য নিরাপদ মনে করতাম। কিন্তু এখন সেই নিরাপত্তাবোধ ভেঙে গেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে— এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ছাত্রীকে জোর করে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানা-য় মামলা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন এক তরুণের চেহারা শনাক্ত হলেও এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।




















