ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে  ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নোয়াখালীতে রেলওয়ের জায়গা থেকে উচ্ছেদ ১২০ স্থাপনা নগরীর আলোকিত শিশু প্রকল্পে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত সান্তাহারে ফল ব্যাবসায়ী সমিতির নতুন কমিটি গঠন জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত  সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির ইসলামপুরে ঝর্না ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ১ মাসের কারাদণ্ড পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ ধান কাটার মেশিন ভাড়ায় বাড়তি টাকা, ক্ষোভ কৃষকদের দূর্গম যমুনা চরের কাঁশবন থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সংকটে বিপাকে গ্রামীণ নারীরা

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৩৯১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
           

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে অধিকাংশ সময় ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী না পাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন গ্রামের নারীরা। উপজেলার গোগোর গ্রামের গৃহবধ‚ মালেকা খাতুন (২৯) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার তো থাকেই না, তেমন কোনো ওষুধও পাওয়া যায় না। গেলে শুধু ওরস্যালাইন আর আয়রনের ট্যাবলেট দেয়। গর্ভনিরোধের সুখী ট্যাবলেটসহ কিছুই পাওয়া যায় না। গ্রামে এমন ক্লিনিক থেকে লাভ কী? তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এতে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাটগাঁও গ্রামের আরেক গৃহবধ‚ আসমা আক্তার বলেন, গ্রামের অনেক নারী অল্পশিক্ষিত হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন নন। তারা গর্ভনিরোধের জন্য ক্লিনিকে গিয়ে সুখী ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশন নিতে চান। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেখানে শুধু ওরস্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে। কোচল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার আপতারুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের পর থেকে ক্লিনিকে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। রোগীরা এসে ওষুধ না পেয়ে প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ক্লিনিকের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। তাছাড়া আমাদেরকে ১৪ গ্রেড থেকে ১৬ গ্রেডে নিয়ে যাওয়ায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা আন্দোলনে নামতে পারে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  আল-হানিফ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত ক্লিনিকগুলোতে দেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কালাম আহমেদ্দ বলেন, উপজেলায় ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, সবগুলোর একই অবস্থা। আমরা বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, জেলায় ১৪৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও বর্তমানে ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাস্টে যাওয়ার পর থেকেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না, ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। ওষুধ সংকট ও জনবল সমস্যার কারণে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপ‚র্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রæত সমস্যার সমাধান না হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সংকটে বিপাকে গ্রামীণ নারীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
           

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে অধিকাংশ সময় ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী না পাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন গ্রামের নারীরা। উপজেলার গোগোর গ্রামের গৃহবধ‚ মালেকা খাতুন (২৯) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার তো থাকেই না, তেমন কোনো ওষুধও পাওয়া যায় না। গেলে শুধু ওরস্যালাইন আর আয়রনের ট্যাবলেট দেয়। গর্ভনিরোধের সুখী ট্যাবলেটসহ কিছুই পাওয়া যায় না। গ্রামে এমন ক্লিনিক থেকে লাভ কী? তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এতে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাটগাঁও গ্রামের আরেক গৃহবধ‚ আসমা আক্তার বলেন, গ্রামের অনেক নারী অল্পশিক্ষিত হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন নন। তারা গর্ভনিরোধের জন্য ক্লিনিকে গিয়ে সুখী ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশন নিতে চান। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেখানে শুধু ওরস্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে। কোচল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার আপতারুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের পর থেকে ক্লিনিকে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। রোগীরা এসে ওষুধ না পেয়ে প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ক্লিনিকের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। তাছাড়া আমাদেরকে ১৪ গ্রেড থেকে ১৬ গ্রেডে নিয়ে যাওয়ায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা আন্দোলনে নামতে পারে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  আল-হানিফ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত ক্লিনিকগুলোতে দেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কালাম আহমেদ্দ বলেন, উপজেলায় ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, সবগুলোর একই অবস্থা। আমরা বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, জেলায় ১৪৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও বর্তমানে ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাস্টে যাওয়ার পর থেকেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না, ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। ওষুধ সংকট ও জনবল সমস্যার কারণে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপ‚র্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রæত সমস্যার সমাধান না হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।