ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ব্যারাজ কী, কোথায় হবে এবং কেন এই মেগা প্রকল্প?

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি বিশাল ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলাকে কেন্দ্র করে পদ্মা নদীর ওপর এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঠামোতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাস। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো।

ব্যারাজ আসলে কী?

ব্যারাজ হলো নদীর ওপর নির্মিত এমন একটি অবকাঠামো, যার মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে একাধিক গেট বা দরজা থাকে, যেগুলো দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ছাড়া বা আটকানো যায়।

ড্যাম বা বাঁধ যেখানে পানি জমিয়ে রাখে, সেখানে ব্যারাজ মূলত পানির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে—কোথায় কতটা পানি যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার জন্য খাল বা নদীতে পানি সরবরাহ করা হয়।

পদ্মা ব্যারাজ কেন দরকার?

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যায়। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খরা, নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ একাধিক নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ করা হবে। এতে কৃষি, মৎস্য এবং নৌপথে বড় ধরনের উন্নতি আশা করা হচ্ছে।

কোথায় হবে প্রকল্পটি?

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর মূল ব্যারাজটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি নদী পুনঃখনন, ড্রেজিং এবং পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

কী কী সুবিধা হতে পারে?

সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে—

*প্রায় ২৪টি জেলার পানিসংকট কমবে
*২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে
*ধান ও মাছ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে
*দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে
*নদীর জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে

এছাড়া ভবিষ্যতে ব্যারাজের সঙ্গে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যারাজ সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে এটি দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ভুল পরিকল্পনা বা দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ হলে এটি উল্টো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে সরকার দেখছে একটি “মাস্টার প্ল্যান” হিসেবে, যা দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে—এখন প্রশ্ন বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা কতটা সফল হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পদ্মা ব্যারাজ কী, কোথায় হবে এবং কেন এই মেগা প্রকল্প?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি বিশাল ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলাকে কেন্দ্র করে পদ্মা নদীর ওপর এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঠামোতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাস। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো।

ব্যারাজ আসলে কী?

ব্যারাজ হলো নদীর ওপর নির্মিত এমন একটি অবকাঠামো, যার মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে একাধিক গেট বা দরজা থাকে, যেগুলো দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ছাড়া বা আটকানো যায়।

ড্যাম বা বাঁধ যেখানে পানি জমিয়ে রাখে, সেখানে ব্যারাজ মূলত পানির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে—কোথায় কতটা পানি যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার জন্য খাল বা নদীতে পানি সরবরাহ করা হয়।

পদ্মা ব্যারাজ কেন দরকার?

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যায়। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খরা, নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ একাধিক নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ করা হবে। এতে কৃষি, মৎস্য এবং নৌপথে বড় ধরনের উন্নতি আশা করা হচ্ছে।

কোথায় হবে প্রকল্পটি?

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর মূল ব্যারাজটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি নদী পুনঃখনন, ড্রেজিং এবং পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

কী কী সুবিধা হতে পারে?

সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে—

*প্রায় ২৪টি জেলার পানিসংকট কমবে
*২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে
*ধান ও মাছ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে
*দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে
*নদীর জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে

এছাড়া ভবিষ্যতে ব্যারাজের সঙ্গে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যারাজ সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে এটি দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ভুল পরিকল্পনা বা দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ হলে এটি উল্টো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে সরকার দেখছে একটি “মাস্টার প্ল্যান” হিসেবে, যা দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে—এখন প্রশ্ন বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা কতটা সফল হয়।