ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে জরিমানা লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি বাংলাদেশের আইনে বাধ্যতামূলক। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের মধ্যে খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ ও পরিচর্যা অন্তর্ভুক্ত।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তারা আলাদা থাকলে নিজের আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ প্রদান করাও আইনি দায়িত্বের অংশ।

আইনের ৪ ধারায় আরও বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে।

৫(১) ধারা অনুযায়ী, ৩ বা ৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, সন্তান বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে ৫(২) ধারা অনুযায়ী তাদেরও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। তিনি বলেন, এ আইনের মাধ্যমে শুধু সন্তানদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়নি, বরং পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানোর বিষয়টিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও প্রবীণদের পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ায় অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন সহায়তার পথ তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী খালিদ হোসাইনের মতে, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রবীণদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে জরিমানা লাখ টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি বাংলাদেশের আইনে বাধ্যতামূলক। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের মধ্যে খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ ও পরিচর্যা অন্তর্ভুক্ত।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তারা আলাদা থাকলে নিজের আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ প্রদান করাও আইনি দায়িত্বের অংশ।

আইনের ৪ ধারায় আরও বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে।

৫(১) ধারা অনুযায়ী, ৩ বা ৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, সন্তান বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে ৫(২) ধারা অনুযায়ী তাদেরও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। তিনি বলেন, এ আইনের মাধ্যমে শুধু সন্তানদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়নি, বরং পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানোর বিষয়টিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও প্রবীণদের পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ায় অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন সহায়তার পথ তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী খালিদ হোসাইনের মতে, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রবীণদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা।