জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। সিআরআইয়ের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করে দুদক।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের অনুকূলে অনুদান গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর সুবিধা দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি।
এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান নিয়ে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে সংস্থাটি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বর ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪-এর বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১৬-এ সংরক্ষিত আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
আবেদনে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে নথি জব্দের আদেশ দেন।

























