ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১১ দিন পর গ্রামে ফিরল চারজনের মরদেহ, মণিরামপুরে শোকের মাতম আইজিপি পদে রদবদলের আভাস, আলোচনায় চার পুলিশ কর্মকর্তা লেক দূষণ রোধে কঠোর রাজউক, ১,২৬৯ ভবনকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জাপানে করমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ৭,৩৭৯ পণ্য, ৫ খাতে বিনিয়োগ চায় ঢাকা ঘনচিনি দিয়ে আইসক্রিম, ঝালকাঠিতে কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একজনকে গুলি করে হত্যা সরকার দলীয়করণের পথে, সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব নয় মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে ৫ দিন বৃষ্টি, কমতে পারে তাপমাত্রা

আইজিপি পদে রদবদলের আভাস, আলোচনায় চার পুলিশ কর্মকর্তা

দেবব্রত দত্ত
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

মো. আহসান হাবিব পলাশ, মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, হাসিব আজিজ ও মোসলেহ উদ্দিন আহমদ

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আলোচনা ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে চার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নথিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন—আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, স্পেশাল রিজার্ভ বাহিনীর (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চাকরিজীবনের বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নথি চাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে আইজিপি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই মুখ্য হবে। আলোচনায় থাকা চার কর্মকর্তার বাইরেও অন্য কারও নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য

গত ২৬ অক্টোবর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে তিনি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ যেতে দ্বিধা করবে না। একই বক্তব্যে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়ে দ্বৈত সমালোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য ছিল, পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করলে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়।

এ ছাড়া মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগ না পেলে সাংবাদিকেরা পুলিশ নিয়ে লেখেন—এমন মন্তব্যও করেন আইজিপি। তাঁর বক্তব্যের এসব অংশ রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আইজিপির বক্তব্যকে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বিষয়টি বিবেচনা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, আইজিপির এমন বক্তব্য ঠিক হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে ব্যবহার করেননি; শব্দটি রূপক অর্থে বলা হয়েছিল। সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্যটিও অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেয়।

আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন অপরাধ তদন্ত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার জন্য বিবেচনায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

এসআরবি মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। একইভাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় এসেছে। চার কর্মকর্তাই বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের।

তবে কেবল নথি তলবের তথ্য থেকে তাঁদের কাউকে নিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত বিবেচনায় থাকবেন, তা নির্ভর করবে সরকারের মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ প্রশাসন

আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পুলিশের ভূমিকা, বলপ্রয়োগের সীমা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের পর সরকারের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আইজিপি পদে রদবদলের আভাস, আলোচনায় চার পুলিশ কর্মকর্তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আলোচনা ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে চার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নথিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন—আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, স্পেশাল রিজার্ভ বাহিনীর (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চাকরিজীবনের বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নথি চাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে আইজিপি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই মুখ্য হবে। আলোচনায় থাকা চার কর্মকর্তার বাইরেও অন্য কারও নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য

গত ২৬ অক্টোবর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে তিনি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ যেতে দ্বিধা করবে না। একই বক্তব্যে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়ে দ্বৈত সমালোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য ছিল, পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করলে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়।

এ ছাড়া মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগ না পেলে সাংবাদিকেরা পুলিশ নিয়ে লেখেন—এমন মন্তব্যও করেন আইজিপি। তাঁর বক্তব্যের এসব অংশ রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আইজিপির বক্তব্যকে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বিষয়টি বিবেচনা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, আইজিপির এমন বক্তব্য ঠিক হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে ব্যবহার করেননি; শব্দটি রূপক অর্থে বলা হয়েছিল। সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্যটিও অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেয়।

আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন অপরাধ তদন্ত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার জন্য বিবেচনায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

এসআরবি মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। একইভাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় এসেছে। চার কর্মকর্তাই বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের।

তবে কেবল নথি তলবের তথ্য থেকে তাঁদের কাউকে নিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত বিবেচনায় থাকবেন, তা নির্ভর করবে সরকারের মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ প্রশাসন

আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পুলিশের ভূমিকা, বলপ্রয়োগের সীমা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের পর সরকারের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।