জাপানে করমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ৭,৩৭৯ পণ্য, ৫ খাতে বিনিয়োগ চায় ঢাকা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে করমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, জাপানি পণ্যের জন্যও বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা থাকবে। নতুন অর্থনৈতিক চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দুই দেশ। এ লক্ষ্যে গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামের সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে করমুক্ত সুবিধা পাবে। বিপরীতে, স্টিল, অটোমোটিভ পার্টস ও বৈদ্যুতিক পণ্যের মতো জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
৩৫০ জাপানি কোম্পানি, বিনিয়োগ ৫০ কোটি ডলারেরও কম
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে কাজ করছে সরকার
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, শুল্কছাড় এবং করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
২০২৯ সালের মধ্যে গাড়ি উৎপাদনে টয়োটা
বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন শিল্পের বিকাশেও জাপানের সহযোগিতা চায় সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তারেক রহমান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি উৎপাদনসহ পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উন্নয়ন সহযোগিতা ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব
বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এখন দুই দেশের সম্পর্ককে প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ।
আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশই লাভবান হতে পারে।
























