চলতি বছর প্রাণহানি ৪০৯
ডেঙ্গুর দাপটে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ডেঙ্গুর প্রকোপে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে প্রাণহানিও। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের বুলেটিনে উঠে এসেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে ৯ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান চলতি অক্টোবর মাসে। মাসের প্রথম ২৮ দিনেই ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ১৬৪ জনের প্রাণ। অর্থাৎ, চলতি বছরের মোট মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে এই এক মাসেই।
ঢাকায় মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ছে রোগীর চাপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৮১৬ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ৩১৩ জন, রাজশাহীতে ২১৭ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১৯৪ জন, রংপুরে ১১৬ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন এবং সিলেটে ২৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রোগীর চাপ বেশি থাকলেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও ছাড় দিচ্ছে না। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপরও বাড়ছে চাপ।
আক্রান্ত ছাড়াল ১ লাখ ৩০ হাজার
চলতি বছরের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন।
তবে বিপুলসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি সামনে আনছে। বিশেষ করে অক্টোবরজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অতীতের ভয়াবহতার স্মৃতি, কাটেনি ঝুঁকি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড।
পরের বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক ছিল না। ওই বছর রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায় এবং প্রাণ হারান চার শতাধিক মানুষ।
চলতি বছরের পরিসংখ্যানও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে অক্টোবরের ২৮ দিনেই ১৬৪ জনের মৃত্যু প্রমাণ করছে, বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিনের মৃত্যু ও হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর ও সমন্বিত প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও জরুরি।






















