বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নৌকা প্রতি ২ হাজার টাকা আদায়

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নৌকা থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিটি বালুবাহী নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে পাড় কেটে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চলায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
নৌকা থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ
রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন বড়গাং নদীর তীরে রুপা মিয়া নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বালুবাহী নৌকা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা হারে এই অর্থ আদায় করা হয়।
এ ছাড়া বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের কাছে দাবি করছেন, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই তাঁরা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর, সোমবার, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত চাঁদাবাজেরা পালিয়ে যান। নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক বলেও জানান তিনি।
তবে ওই জমির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ বলছেন সেগুলো সরকারি। এ কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দেওয়ার দাবি
অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই জায়গার মূল মালিক তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির একটি অংশ রুপা মিয়া বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সাবলিজ দিয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। বাকি অংশ থেকে রুপা মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলেও দাবি তাঁদের।
আব্দুল জলিল ও আলমের প্রশ্ন, ওই স্থান থেকে বালু বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা কেন প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন? আর বালু উত্তোলন অবৈধ হলে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
তবে জমির মালিকানা, সাবলিজের বৈধতা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীর তীর ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে তাঁদের আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কারা চাঁদাবাজি করছেন, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পাড় রক্ষা এবং নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকেও উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের প্রকৃত চিত্র, জমির মালিকানা ও সাবলিজের বৈধতা এবং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


























