ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ প্রাণ গেছে ২,৯৫৭ জনের, শীর্ষে পুলিশ ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বেশির ভাগ এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক জাপানের সঙ্গে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, দ্রুত আসছে প্রতিনিধি দল চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি নয়, বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত জাল সনদে বিসিএসে সুপারিশ, দুই প্রার্থীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক শেখ হাসিনার ইস্যুতেই আটকে আছে তারেক রহমানের ভারত সফর সাগর-রুনি হত্যা: তথ্য যাচাই করছে টাস্কফোর্স, ফের সময়ের আবেদন পর্যটন অবকাঠামো বাড়ছে, নিরাপত্তায় পিছিয়ে মেরিন ড্রাইভ

ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বেশির ভাগ এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁওসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে শুরুতে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানায়, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের একটি অংশেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ছিল।

পরে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ২৯৮ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট।

তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সঙ্গে গ্রিড বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিপর্যয়ের সূত্রপাত ও প্রকৃত কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ত্রুটি শনাক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হয়। পরিস্থিতির জটিলতা অনুযায়ী এতে কয়েক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।

আগেও একাধিকবার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়

বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে, ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

বারবার এমন বিপর্যয়ের ঘটনা জাতীয় গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বেশির ভাগ এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁওসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে শুরুতে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানায়, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের একটি অংশেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ছিল।

পরে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ২৯৮ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট।

তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সঙ্গে গ্রিড বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিপর্যয়ের সূত্রপাত ও প্রকৃত কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ত্রুটি শনাক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হয়। পরিস্থিতির জটিলতা অনুযায়ী এতে কয়েক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।

আগেও একাধিকবার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়

বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে, ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

বারবার এমন বিপর্যয়ের ঘটনা জাতীয় গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।