ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আসকের পরিসংখ্যান: মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ পুলিশের অভিযানে

২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ প্রাণ গেছে ২,৯৫৭ জনের, শীর্ষে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৯৫৭ জন। দীর্ঘ ২২ বছরের এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পুলিশের অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আসকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে র‍্যাবের অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৯ জন। অর্থাৎ, পুলিশ, র‍্যাব ও তাদের যৌথ অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪০।

দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে আসকের পরিসংখ্যান মূলত নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলে ধরে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, দায় ও আইনগত বৈধতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন পৃথক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।

২০২৪ সালের পর পুলিশ-র‍্যাবের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র

আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ কারও নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে এমন তথ্য না পাওয়া পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

তবে পুলিশ ও র‍্যাবের ক্ষেত্রে এমন মৃত্যুর তথ্য না থাকলেও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন।

অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ ও র‍্যাবের ক্ষেত্রে এ ধরনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা রয়ে গেছে।

জবাবদিহি ও তদন্তের প্রশ্ন

আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব, তাদের যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের অভিযানে সবচেয়ে বেশি এবং র‍্যাবের অভিযানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

দীর্ঘ সময়ের এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানসংক্রান্ত প্রাণহানির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আসকের পরিসংখ্যান: মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ পুলিশের অভিযানে

২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ প্রাণ গেছে ২,৯৫৭ জনের, শীর্ষে পুলিশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৯৫৭ জন। দীর্ঘ ২২ বছরের এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পুলিশের অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আসকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে র‍্যাবের অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৯ জন। অর্থাৎ, পুলিশ, র‍্যাব ও তাদের যৌথ অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪০।

দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে আসকের পরিসংখ্যান মূলত নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলে ধরে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, দায় ও আইনগত বৈধতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন পৃথক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।

২০২৪ সালের পর পুলিশ-র‍্যাবের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র

আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ কারও নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে এমন তথ্য না পাওয়া পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

তবে পুলিশ ও র‍্যাবের ক্ষেত্রে এমন মৃত্যুর তথ্য না থাকলেও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন।

অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ ও র‍্যাবের ক্ষেত্রে এ ধরনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা রয়ে গেছে।

জবাবদিহি ও তদন্তের প্রশ্ন

আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব, তাদের যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের অভিযানে সবচেয়ে বেশি এবং র‍্যাবের অভিযানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

দীর্ঘ সময়ের এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানসংক্রান্ত প্রাণহানির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পরিচিত।