ক্রসফায়ার ফেরানোর প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপির বক্তব্য: আখতার হোসেন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বলার পেছনে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, সরকারের সঙ্গে ভেতরে-ভেতরে আলোচনা না থাকলে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য আসত না। এ বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ না করার আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেছেন, নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরে আসার মধ্য দিয়ে সরকার স্বৈরাচারী পথেই এগোচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। সভায় সাইবার সুরক্ষা আইন, গণভোটের রায়, সংস্কার কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।
আইজিপির ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যকে রূপক অর্থে বলা হয়েছে—এমন ব্যাখ্যার সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, এ ধরনের বক্তব্যকে রূপক অর্থে বলা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হলে সেটি কেমন রূপকথা হয়? বক্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে। সরকারের সঙ্গে ক্রসফায়ার নিয়ে ভেতরে-ভেতরে কোনো আলোচনা না থাকলে আইজিপির মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসত না।
আখতার হোসেন বলেন, আইজিপি যখন ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন, তখন সেটিকে সরকারের বক্তব্য হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি এমন কথা বলেছেন বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ করা হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন এনসিপির সদস্যসচিব।
সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার সাইবার সুরক্ষার নামে নিজেদের সুরক্ষার জন্য আইন করতে চাইছে। সরকারের দেওয়া তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রচার হোক, তা সরকার চায় না।
তাঁর মতে, এ ধরনের প্রবণতা ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিফলন এবং উত্তর কোরিয়ার মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সরকার অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধের কথা বললেও সরকারের পক্ষ থেকে ছড়ানো কথিত গুজবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারের বক্তব্যই চূড়ান্ত সত্য—এমন মনোভাবের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার যদি বলে তার লম্বা হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ আসতে দেরি হয় কিংবা মিরাজ শেখ গুম হননি, তাহলে কি সেটিকেই সত্য বলে মেনে নিতে হবে?
ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। আখতার হোসেনের অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল, সংস্কারের নামে তাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংস্কার কার্যক্রমের শুরুতেই গণভোটের রায় অস্বীকারের মধ্য দিয়ে সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে।
এনসিপির এই নেতার অভিযোগ, স্বৈরাচার হওয়ার পথে সরকারের যেসব বাধা ছিল, সেগুলো সরকার শুরু থেকেই সরিয়ে নিচ্ছে। গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সরকার আইন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখতে চায়নি। অন্যদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেও নিজেদের দলীয় লোকজন দিয়ে সেই সরকার গঠন করতে চায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির এমন অবস্থানকে ইতিবাচক মনে করেন না বলে জানান তিনি।
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি যে পথে এগোচ্ছে, তা আরেকটি স্বৈরাচারী পথ। এ ধরনের পরিস্থিতি আর হতে দেওয়া যাবে না।
আলোচনা সভা থেকে সরকারের প্রতি সাইবার সুরক্ষা আইনসংক্রান্ত সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানান এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেশের মঙ্গলের বিষয় নেই; বরং নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করার উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হচ্ছে।























