মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস, নতুন মুখ কারা আসছেন?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের পর এবার সরকারের মন্ত্রিসভায়ও সীমিত পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন, তাঁর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন মুখ
এরই মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার)।
শনিবার দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ার পর স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির পূর্ণ কাঠামো ১৯ সদস্যের।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি নতুন মহাসচিব কে হবেন, সেটিও এখন বিএনপির ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
রিজভী কি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব?
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এর আগে স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও আলোচনায় ছিল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কে?
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত আকারে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীকে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে কোনো সিদ্ধান্তই এখনো চূড়ান্ত নয়।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ কারা?
সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কয়েকজনের নাম নিয়ে বিএনপি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
- কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল
- গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান
- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ
এ ছাড়া বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব নামের কোনোটি নিয়েই এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে আসনটিতে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে কী হতে পারে?
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার পর এখন নজর মহাসচিব পদে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদল হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
তবে কে মন্ত্রী হচ্ছেন, কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বদলাচ্ছে কিংবা রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হচ্ছেন কি না—কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে শেষ মুহূর্তে তালিকা ও দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও থাকছে।

























