দলে রোষের মুখে হাছান মাহমুদ, হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ স্বস্তিকর ছিল না
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার দাবি, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই তাঁকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি।
অ্যান্টওয়ার্পের কক্সপ্লেইনে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি শহিদুল হক প্রধান অতিথি এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী রতন প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন খোকন শরীফ, হুমায়ুন মাকসুদ হিমু ও মোশারফ হোসেন বাবু। তবে বেলজিয়ামে অবস্থানরত হাছান মাহমুদের নাম অতিথি তালিকায় নেই।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, ইউরোপে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ হাছান মাহমুদের ওপর ক্ষুব্ধ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাছান মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউরোপে দলীয় কর্মসূচিতেও অনুপস্থিতি
বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে হাছান মাহমুদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। তাঁদের দাবি, দলীয় কর্মীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তিনি অনেক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন।
গত ১৬ জুলাই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সংলাপেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা থাকলেও হাছান মাহমুদকে রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে জার্মানির কোলনে আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিতে তাঁকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যে অবস্থান
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদ দেশ ছাড়েন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দেশের বাইরে অবস্থানের তথ্য রয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান, নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে আইনি পদক্ষেপ
হাছান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে তাঁর, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের পাশাপাশি তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার তথ্যও রয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় আদালতের আদেশে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাছান মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের তথ্যও সামনে এসেছে।
দলীয় রাজনীতিতে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাছান মাহমুদ বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে বিদেশে থাকা দলটির নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এর মধ্যে ইউরোপে দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনা তাঁর সঙ্গে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের নতুন ইঙ্গিত কি না—তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।





















