উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে চা শিল্পে স্থবিরতা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে চা শিল্পে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং গ্যাসের কম চাপের কারণে সময়মতো কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে পারছেন না বাগান মালিকরা। এতে একদিকে চায়ের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মান নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
চা কারখানাগুলোতে কাটিং, রোলিং, উইদারিং, সর্টিংসহ বিভিন্ন ধাপের যন্ত্রপাতি বিদ্যুৎনির্ভর। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এসব কার্যক্রম থেমে যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চা পাতা শুকানোর ড্রায়িং প্রক্রিয়াও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই ও আগস্ট চা উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কাঁচা পাতা দ্রুত কারখানায় এনে প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে চায়ের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পুরো বছরের উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শনিবার রাতে সিলেট বিসিকের একটি সূত্র জানায়, শিল্পকারখানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজি খালাসে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হয়েছে।
তবে কারখানা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও চাপ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। সিলেট বিসিকের গোটাটিকর এলাকায় শনিবার সাত থেকে আটবার লোডশেডিং হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চা কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কাটিং, রোলিংসহ বিভিন্ন মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও সব যন্ত্রপাতি সঙ্গে সঙ্গে চালু করা সম্ভব হয় না। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিরতি তৈরি হচ্ছে।
সিলেটের চা শ্রমিকদের ভ্যালীর সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটবার লোডশেডিং হচ্ছে। একটি কারখানায় মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এর ওপর গ্যাসের চাপ কম থাকায় ড্রায়িং প্রক্রিয়ায় চা পাতা ঠিকমতো শুকানো যাচ্ছে না। এতে চায়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বড় অর্থনীতির ওপরও প্রভাব
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে সিলেট জেলায় ১৯টি, মৌলভীবাজারে ৯১টি এবং হবিগঞ্জে ২৫টি চা বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে আলাদা কারখানা না থাকলেও বড় ও কেন্দ্রীয় কারখানাগুলোতে আশপাশের একাধিক বাগানের কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
পুরো সিলেট অঞ্চলে চা উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত ও সক্রিয় কারখানার সংখ্যা আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০টি। এসব বাগান ও কারখানাকে ঘিরে সরাসরি কর্মরত রয়েছেন এক লাখের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী চা শ্রমিক। চা জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।
চা উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে শুধু কারখানা মালিক বা শ্রমিক নয়, পুরো চা শিল্পেই এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড সারা দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি (১০৪ মিলিয়ন কেজি) চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে জুলাই-আগস্টের পিক সিজনে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।




















