ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শালিস বৈঠকে গুলি করে হত্যা: তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই’ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে চা শিল্পে স্থবিরতা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন যুগ: রাষ্ট্রের পাশে বেসরকারি খাত ঝুঁকিতে সাজেলেরচর বাজার ও তিন উপজেলার সংযোগ সেতু দুপুর হলেই ঘুমে ঢুলে পড়েন? ক্লান্তি নাকি অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দলে রোষের মুখে হাছান মাহমুদ, হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ স্বস্তিকর ছিল না ব্রিকসের আগেই ভারত সফরে তারেক রহমান! ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ? মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস, নতুন মুখ কারা আসছেন?

ব্রিকসের আগেই ভারত সফরে তারেক রহমান! ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ?

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সফরের পেছনে শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও কাজ করতে পারে।

আগামী মাসে ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ থাকলেও তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগাম ভারত সফরকে ভিন্ন মাত্রার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই কি মূল লক্ষ্য?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকের পরিবর্তে আলাদা রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব।

সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি এবং দুই দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থার মতো বিষয়গুলো এ ধরনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিও আলোচনার অংশ হতে পারে।

তবে সফরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে সম্ভাব্য সফরের উদ্দেশ্য ও আলোচ্যসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তার সবটাই এখনো নিশ্চিত তথ্য নয়।

চীন-পাকিস্তান সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বাংলাদেশ একই সঙ্গে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চায়। ফলে প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা বর্তমান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের চীন সফরও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে গিয়ে সরকারকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

সম্পর্কের বরফ কি গলছে?

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

এর মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের খবর সামনে আসায় কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—দুই দেশের সম্পর্ক কি নতুন করে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে?

তবে একটি সফর দিয়েই সম্পর্কের সব জটিলতা দূর হবে—এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

ব্রিকসের আগে সফর কেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সেপ্টেম্বরে যখন ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের মাটিতেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে, তখন তার আগেই আলাদা করে নয়াদিল্লি সফরের প্রয়োজন কেন?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আগাম সফরের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বহুপক্ষীয় কূটনীতির বাইরে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত সফরটি হবে কি না, হলে তার সময়সূচি কী হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে।

সম্ভাব্য সফরটি বাস্তবায়িত হলে, তা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্রিকসের আগেই ভারত সফরে তারেক রহমান! ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সফরের পেছনে শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও কাজ করতে পারে।

আগামী মাসে ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ থাকলেও তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগাম ভারত সফরকে ভিন্ন মাত্রার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই কি মূল লক্ষ্য?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকের পরিবর্তে আলাদা রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব।

সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি এবং দুই দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থার মতো বিষয়গুলো এ ধরনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিও আলোচনার অংশ হতে পারে।

তবে সফরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে সম্ভাব্য সফরের উদ্দেশ্য ও আলোচ্যসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তার সবটাই এখনো নিশ্চিত তথ্য নয়।

চীন-পাকিস্তান সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বাংলাদেশ একই সঙ্গে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চায়। ফলে প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা বর্তমান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের চীন সফরও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে গিয়ে সরকারকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

সম্পর্কের বরফ কি গলছে?

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

এর মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের খবর সামনে আসায় কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—দুই দেশের সম্পর্ক কি নতুন করে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে?

তবে একটি সফর দিয়েই সম্পর্কের সব জটিলতা দূর হবে—এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

ব্রিকসের আগে সফর কেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সেপ্টেম্বরে যখন ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের মাটিতেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে, তখন তার আগেই আলাদা করে নয়াদিল্লি সফরের প্রয়োজন কেন?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আগাম সফরের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বহুপক্ষীয় কূটনীতির বাইরে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত সফরটি হবে কি না, হলে তার সময়সূচি কী হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে।

সম্ভাব্য সফরটি বাস্তবায়িত হলে, তা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।