ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের প্রতিবাদ ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর টাক ঢাকতে হেয়ার প্যাচ কতটা নিরাপদ? ভুল ব্যবহারে বাড়তে পারে চুল পড়া শিগগিরই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক খালেদা জিয়া: রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ পথচলা আরও বড় পরিসরে চালু হবে যশোর শিশু হাসপাতাল: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত Billions at Stake, Work Left Unfinished: Questions Surround Transrail and Amrik Singh হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও ট্রান্সরেল ও অমৃক সিং? ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী , দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

শিগগিরই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। দুই বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও অনেকটাই ছোট করে আনা হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বর্তমান কমিটির কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা, শিক্ষাজীবন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, সারা দেশে সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা হচ্ছে।

শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এর বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির খোরশেদ আলম (সোহেল), এইচ এম আবু জাফর, তরিকুল ইসলাম (তারিক), আবদুর রহিম (রনি), ফারুক আহমেদ, শরীফ প্রধান (শুভ), মো. সোহেল রানা এবং মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স) নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আন্দোলনের ভূমিকা গুরুত্ব পাচ্ছে

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে কারা সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন, কারা মামলা-গ্রেপ্তার ও চাপের মধ্যেও সক্রিয় ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক আচরণ এবং কোনো ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা এবং সংগঠনের জন্য অবদান রাখা নেতারা নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অতীতে কারা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কারা কাজ করতে পারবেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এবার ‘সিন্ডিকেটের’ প্রভাব কমার দাবি

ছাত্রদলের অতীতের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় সাবেক নেতাদের ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অতীত সরাসরি যাচাই করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম ধাপে পাঁচ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে।

পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটিতে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমানউল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে রাকিবুল-নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই দায়িত্ব পালন করছে।

সরাসরি ভোটের প্রস্তুতি নেই

ছাত্রদলের ইতিহাসে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নজির রয়েছে। ১৯৯২ সালে কাউন্সিলরদের ভোটে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি ও এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালে আবারও সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

ওই নির্বাচনে ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন ভোট দেন। এতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তবে এবার কাউন্সিল বা সরাসরি ভোটের কোনো প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাতেও নতুন নেতৃত্বের আলোচনা

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে এই শাখার নেতৃত্ব নির্বাচনও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্ভাব্য নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া (ইমন), বিজয় একাত্তর হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী (মায়েদ), কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী (হামিম), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (বিজয়), বি এম কাউসার, মো. আল আমীন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার জিসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ও আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে কারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসছেন, সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিগগিরই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। দুই বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও অনেকটাই ছোট করে আনা হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বর্তমান কমিটির কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা, শিক্ষাজীবন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, সারা দেশে সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা হচ্ছে।

শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এর বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির খোরশেদ আলম (সোহেল), এইচ এম আবু জাফর, তরিকুল ইসলাম (তারিক), আবদুর রহিম (রনি), ফারুক আহমেদ, শরীফ প্রধান (শুভ), মো. সোহেল রানা এবং মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স) নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আন্দোলনের ভূমিকা গুরুত্ব পাচ্ছে

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে কারা সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন, কারা মামলা-গ্রেপ্তার ও চাপের মধ্যেও সক্রিয় ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক আচরণ এবং কোনো ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা এবং সংগঠনের জন্য অবদান রাখা নেতারা নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অতীতে কারা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কারা কাজ করতে পারবেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এবার ‘সিন্ডিকেটের’ প্রভাব কমার দাবি

ছাত্রদলের অতীতের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় সাবেক নেতাদের ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অতীত সরাসরি যাচাই করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম ধাপে পাঁচ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে।

পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটিতে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমানউল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে রাকিবুল-নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই দায়িত্ব পালন করছে।

সরাসরি ভোটের প্রস্তুতি নেই

ছাত্রদলের ইতিহাসে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নজির রয়েছে। ১৯৯২ সালে কাউন্সিলরদের ভোটে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি ও এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালে আবারও সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

ওই নির্বাচনে ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন ভোট দেন। এতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তবে এবার কাউন্সিল বা সরাসরি ভোটের কোনো প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাতেও নতুন নেতৃত্বের আলোচনা

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে এই শাখার নেতৃত্ব নির্বাচনও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্ভাব্য নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া (ইমন), বিজয় একাত্তর হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী (মায়েদ), কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী (হামিম), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (বিজয়), বি এম কাউসার, মো. আল আমীন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার জিসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ও আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে কারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসছেন, সেটিই দেখার বিষয়।