ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর টাক ঢাকতে হেয়ার প্যাচ কতটা নিরাপদ? ভুল ব্যবহারে বাড়তে পারে চুল পড়া শিগগিরই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক খালেদা জিয়া: রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ পথচলা আরও বড় পরিসরে চালু হবে যশোর শিশু হাসপাতাল: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত Billions at Stake, Work Left Unfinished: Questions Surround Transrail and Amrik Singh হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও ট্রান্সরেল ও অমৃক সিং? ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী , দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা চলতি অর্থবছরেই সিটি-ইউপি-পৌরসভাসহ ৫ নির্বাচন

১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে একদল সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনও নিহত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং তাঁর ভাই শেখ আবু নাসের নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁকে রক্ষা করতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, পুলিশের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই ঘটনায় নিহত হন।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। আরেকটি হামলায় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

বিচারের দীর্ঘ পথ

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন এবং পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম নতুন গতি পায়।

দীর্ঘ সময় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতো। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা

ষাটের দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রধান নেতায় পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রেরণা সৃষ্টি করে। সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এরপর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের রাষ্ট্র পরিচালনাতেও শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাল্টে গেছে ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক বাস্তবতা

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৫ আগস্টকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ওই বছরের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি আরও একবার হামলার শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলে একসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হওয়া ১৫ আগস্ট এখন ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

ইতিহাসের একটি গভীর ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে একদল সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনও নিহত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং তাঁর ভাই শেখ আবু নাসের নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁকে রক্ষা করতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, পুলিশের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই ঘটনায় নিহত হন।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। আরেকটি হামলায় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

বিচারের দীর্ঘ পথ

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন এবং পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম নতুন গতি পায়।

দীর্ঘ সময় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতো। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা

ষাটের দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রধান নেতায় পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রেরণা সৃষ্টি করে। সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এরপর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের রাষ্ট্র পরিচালনাতেও শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাল্টে গেছে ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক বাস্তবতা

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৫ আগস্টকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ওই বছরের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি আরও একবার হামলার শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলে একসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হওয়া ১৫ আগস্ট এখন ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

ইতিহাসের একটি গভীর ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।