অটোরিকশার চার্জিং ঘিরে বছরে ২১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহারও। হিসাব বলছে, প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চার্জ দিতে বছরে প্রায় ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। এর বড় অংশই আবার বৈধ মিটারের আওতায় নেই। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই বিশাল ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোরিকশার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাতেই চাপ তৈরি করছে না, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুল অঙ্কের অনিয়ন্ত্রিত আর্থিক লেনদেন। এতে বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের হিসাবে উঠে এসেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। এক ঘণ্টা চার্জে প্রায় ১১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। আর প্রায় আট ঘণ্টা চার্জ দিলে একটি অটোরিকশায় খরচ হয় প্রায় ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ।
তবে এই বিদ্যুতের বড় অংশের বিল সরকার পায় না। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা যায়।
অন্যদিকে, রাজধানীতেই অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন একটি হিসাব দিয়েছে সিপিডি। তাদের এক গবেষণায় ঢাকায় প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিটি অটোরিকশা একবার চার্জ দিতে গ্যারেজে গড়ে ১০০ টাকা খরচ হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে শুধু চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে।
এ খাতের অনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির ব্যাপ্তি আরও বড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্যারেজে রিকশা রাখা, চার্জ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম মিলিয়ে বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোলে এ খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, চার্জিং ব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশা অবৈধভাবে চললেও এর সঙ্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেন থাকায় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অর্থাৎ একদিকে বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ, অন্যদিকে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি—সব মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন শুধু যানজট বা সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; বিদ্যুৎ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।





















