ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দিল্লির দুই আমন্ত্রণ, তারেক রহমান কি শেষ পর্যন্ত ভারত যাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি দিল্লি সফর করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে ভারত।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবে জোটের নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদের সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের (বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ) চেয়ারম্যান। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে গত জুলাইয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ, তবু সিদ্ধান্তে অপেক্ষা

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর তিনি ভারত সফরে যান।

এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন কি না। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই বিষয়ে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছেও প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এখনো ঢাকা বা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষ থেকেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

সম্পর্কের বরফ গলানোর সুযোগ দেখছেন কূটনীতিকরা

সাবেক কূটনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সফরটির গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও এটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমানের মতে, ব্রিকস আউটরিচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য কার্যকর একটি সফর হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামসও মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে এই সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায্যতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার ইস্যুতেও টানাপোড়েন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা কিছুটা কমানোর চেষ্টা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আবারও সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। পরদিন এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকও করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় বিবেচনা

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে সরকার দিল্লি সফরের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

তবে অন্যদিকে, ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ নিশ্চিত হলেও তার দিল্লি যাত্রা এখনো অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ঢাকা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সেপ্টেম্বরের এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিল্লির দুই আমন্ত্রণ, তারেক রহমান কি শেষ পর্যন্ত ভারত যাবেন?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি দিল্লি সফর করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে ভারত।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবে জোটের নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদের সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের (বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ) চেয়ারম্যান। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে গত জুলাইয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ, তবু সিদ্ধান্তে অপেক্ষা

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর তিনি ভারত সফরে যান।

এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন কি না। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই বিষয়ে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছেও প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এখনো ঢাকা বা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষ থেকেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

সম্পর্কের বরফ গলানোর সুযোগ দেখছেন কূটনীতিকরা

সাবেক কূটনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সফরটির গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও এটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমানের মতে, ব্রিকস আউটরিচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য কার্যকর একটি সফর হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামসও মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে এই সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায্যতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার ইস্যুতেও টানাপোড়েন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা কিছুটা কমানোর চেষ্টা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আবারও সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। পরদিন এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকও করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় বিবেচনা

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে সরকার দিল্লি সফরের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

তবে অন্যদিকে, ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ নিশ্চিত হলেও তার দিল্লি যাত্রা এখনো অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ঢাকা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সেপ্টেম্বরের এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না।