ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হলো ই-বেইল বন্ড, কমবে জামিনের ভোগান্তি

রুবেল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামিন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হয়েছে ‘ই-বেইল বন্ডথ ব্যবস্থা। প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজে জামিননামা (বেইল বন্ড) দাখিলের পরিবর্তে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামিনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

ঠাকুরগাঁও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত ১৩টি ম্যানুয়াল ধাপ পার হতে হতো। নতুন ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থায় এখন মাত্র তিনটি প্রধান ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ফলে জামিনের পর কারাগার থেকে আসামির মুক্তির প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় কম সময় লাগবে।

জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের সময়ক্ষেপণ ও পদ্ধতিগত জটিলতা কমাতে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুরে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তৃতীয় ধাপে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় কার্যক্রম স¤প্রসারণ করা হয়। এবার ঠাকুরগাঁওসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হলো।

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন বলেন, “ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে। আগে জামিননামা সম্পন্ন করতে বিভিন্ন ধাপে আদালত ও কারাগারে যেতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে অল্প সময়ে জামিনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি আদালত, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের কাজের চাপও কমবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ বলেন, ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের সময়ক্ষেপণ ও নানা ধরনের জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের আদালত থেকে কারাগারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার ঝামেলাও কমবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত জামিননামা সম্পন্ন হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা স্বল্প সময়ে এর সুফল পাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন, ল্যান্ড সার্ভে আপিলেট ট্রাইব্যুনালের বিচারক কৃষ্ণকান্ত রায়, পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. জালাল উদ্দিন, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক রফিকুল বারী, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. মজনু মিয়া, জেল সুপার মাসুদুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ও পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল হালিমসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হলো ই-বেইল বন্ড, কমবে জামিনের ভোগান্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জামিন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হয়েছে ‘ই-বেইল বন্ডথ ব্যবস্থা। প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজে জামিননামা (বেইল বন্ড) দাখিলের পরিবর্তে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামিনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

ঠাকুরগাঁও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত ১৩টি ম্যানুয়াল ধাপ পার হতে হতো। নতুন ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থায় এখন মাত্র তিনটি প্রধান ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ফলে জামিনের পর কারাগার থেকে আসামির মুক্তির প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় কম সময় লাগবে।

জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের সময়ক্ষেপণ ও পদ্ধতিগত জটিলতা কমাতে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুরে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তৃতীয় ধাপে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় কার্যক্রম স¤প্রসারণ করা হয়। এবার ঠাকুরগাঁওসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হলো।

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন বলেন, “ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে। আগে জামিননামা সম্পন্ন করতে বিভিন্ন ধাপে আদালত ও কারাগারে যেতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে অল্প সময়ে জামিনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি আদালত, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের কাজের চাপও কমবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ বলেন, ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের সময়ক্ষেপণ ও নানা ধরনের জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের আদালত থেকে কারাগারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার ঝামেলাও কমবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত জামিননামা সম্পন্ন হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা স্বল্প সময়ে এর সুফল পাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন, ল্যান্ড সার্ভে আপিলেট ট্রাইব্যুনালের বিচারক কৃষ্ণকান্ত রায়, পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. জালাল উদ্দিন, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক রফিকুল বারী, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. মজনু মিয়া, জেল সুপার মাসুদুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ও পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল হালিমসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।