১৬ বছরেও সংস্কার হয়নি ৭ সড়ক, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ রামগতিতে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় দীর্ঘ ১৬ বছরেও সংস্কার না হওয়া সাতটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কে ধানের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিশারী জামে মসজিদ সড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিশারী জামে মসজিদ সড়কসহ পৌরসভার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কগুলো হলো—আসলাম তহলিশদার বাড়ি সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা ছায়েদুল হক সড়ক, চাপরাশি সড়ক, হানিফ মাস্টার সড়ক, গণি মুন্সি সড়ক ও স্বনির্ভর সড়ক।
তাদের দাবি, এসব সড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়। বছরের বেশির ভাগ সময় খানাখন্দে কাদা ও পানি থাকায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের জন্য আবেদন-নিবেদন করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সড়কে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় রামগতি পৌরসভার সড়ক উন্নয়ন ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় আলেকজান্ডার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ সম্পন্ন হলেও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি সড়কে এখনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজ হয়নি।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরিফ, সুজন, আবুল কালাম ও সাজেদুল বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়, আর পানি কমলে কাদা ও গর্তের কারণে পথ চলা কঠিন হয়ে পড়ে।
রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফারুকুল ইসলাম বাবলু বলেন, পুরো পৌরসভার কাজ তিনটি প্যাকেজে হওয়ার কথা ছিল। অনেক জায়গায় কাজ শেষ হলেও এই এলাকার সড়কগুলো এখনো পড়ে আছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দাবি পূরণ না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।



















