বাংলাদেশে আসুন, বিনিয়োগ করুন—চীনা উদ্যোক্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে চীনের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যৎমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়তে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাইয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চীনা ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক ও অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এখন কূটনৈতিক সম্পর্ক ছাড়িয়ে বাণিজ্য, শিল্প ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনীতি ও সুশাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন, আধুনিক অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য খুঁজছে। বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেও সুবিধা নিতে পারবে।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বৈষম্যহীন সুবিধা পাবেন। আইন অনুযায়ী মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পভিত্তিক অবতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্দর, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সরবরাহ ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তারেক রহমান জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিডায় বিশেষ সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস চালু করা হবে। এর মাধ্যমে চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন।
নতুন ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার পরবর্তী বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অংশীদার হতে তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। দেশের দক্ষ জনশক্তি, সম্ভাবনাময় বাজার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আসুন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। সমতার ভিত্তিতে প্রকৃত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই।”




















