ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাজারের দানের টাকা কোথায় যায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দান হিসেবে আসা অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাজারে আসা টাকা ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে দানের অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল প্রশাসন।

সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে অভিযোগ করেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নেই এবং কিছু ব্যক্তি এসব অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ব্যয় করেন। তবে মাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত খাদেমরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিতর্কের মধ্যে মাজারের কয়েকটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াকফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাজারের দানের অর্থ এখন থেকে একটি ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।

চার দিনে মিলল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা

শাহজালাল মাজারে এবারই প্রথম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানের ডেগ ও বাক্স খোলা হয়। সেখানে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, কিছু বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।

এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—যদি কয়েক দিনে এত টাকা আসে, তাহলে দীর্ঘ সময়ের দানের অর্থ কোথায় যায়?

খাদেমদের দাবি: অর্থ মাজারের কাজেই ব্যয় হয়

মাজারের খাদেমদের দাবি, দানের অর্থ মাজারের ব্যবস্থাপনা, অতিথিদের সেবা, লঙ্গরখানা, মসজিদ পরিচালনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।

খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, বংশপরম্পরায় তারা মাজারের সেবার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার দাবি, মাজারে আসা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে নয়, বরং মাজারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, মাজারে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের বেতন, ওরশ আয়োজনসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।

খাদেম পরিবার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে আসা সঙ্গীদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাজারের সেবায় যুক্ত। সময়ের সঙ্গে এসব পরিবারই খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

তাদের দাবি, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খাদেম পরিবারগুলো নির্দিষ্ট দিনে মাজারের দায়িত্ব পালন করে এবং দানের অর্থের একটি অংশ মাজারের কাজে দেওয়া হয়।

ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে মাজার

ওয়াকফ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল মাজার একটি ওয়াকফ সম্পত্তি। দেশে মসজিদ, মাজার, কবরস্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।

ওয়াকফ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

দেশের বিভিন্ন মাজারে দানের অর্থ, পশু ও অন্যান্য মানতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটি বা খাদেমরাই এসব পরিচালনা করে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় বিবেচনায় রেখে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শাহজালাল মাজারে ব্যাংক হিসাব চালুর উদ্যোগের পর এখন দেখার বিষয়, নতুন ব্যবস্থাপনায় দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কতটা পরিবর্তন আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাজারের দানের টাকা কোথায় যায়?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দান হিসেবে আসা অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাজারে আসা টাকা ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে দানের অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল প্রশাসন।

সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে অভিযোগ করেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নেই এবং কিছু ব্যক্তি এসব অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ব্যয় করেন। তবে মাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত খাদেমরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিতর্কের মধ্যে মাজারের কয়েকটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াকফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাজারের দানের অর্থ এখন থেকে একটি ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।

চার দিনে মিলল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা

শাহজালাল মাজারে এবারই প্রথম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানের ডেগ ও বাক্স খোলা হয়। সেখানে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, কিছু বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।

এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—যদি কয়েক দিনে এত টাকা আসে, তাহলে দীর্ঘ সময়ের দানের অর্থ কোথায় যায়?

খাদেমদের দাবি: অর্থ মাজারের কাজেই ব্যয় হয়

মাজারের খাদেমদের দাবি, দানের অর্থ মাজারের ব্যবস্থাপনা, অতিথিদের সেবা, লঙ্গরখানা, মসজিদ পরিচালনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।

খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, বংশপরম্পরায় তারা মাজারের সেবার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার দাবি, মাজারে আসা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে নয়, বরং মাজারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, মাজারে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের বেতন, ওরশ আয়োজনসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।

খাদেম পরিবার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে আসা সঙ্গীদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাজারের সেবায় যুক্ত। সময়ের সঙ্গে এসব পরিবারই খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

তাদের দাবি, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খাদেম পরিবারগুলো নির্দিষ্ট দিনে মাজারের দায়িত্ব পালন করে এবং দানের অর্থের একটি অংশ মাজারের কাজে দেওয়া হয়।

ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে মাজার

ওয়াকফ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল মাজার একটি ওয়াকফ সম্পত্তি। দেশে মসজিদ, মাজার, কবরস্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।

ওয়াকফ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

দেশের বিভিন্ন মাজারে দানের অর্থ, পশু ও অন্যান্য মানতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটি বা খাদেমরাই এসব পরিচালনা করে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় বিবেচনায় রেখে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শাহজালাল মাজারে ব্যাংক হিসাব চালুর উদ্যোগের পর এখন দেখার বিষয়, নতুন ব্যবস্থাপনায় দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কতটা পরিবর্তন আসে।