ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশম শ্রেণির ছাত্র দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন!

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লায় শিক্ষা বোর্ডের বণ্টন করা ২০২৪-২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের খাতা দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করার অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিকালে এলাকাবাসীর পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও অলি আহম্মেদ নামে দুই ব্যক্তি দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত ২১ জুন দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সদ্যসমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের উত্তরপত্র একটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে মূল্যায়ন করছেন ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। এ সময় তার পাশে উত্তরপত্রের আরও কয়েকটি স্তূপ রাখা ছিল। পরে এক শিক্ষার্থী খাতার দেখার ভিডিও করেন। ভিডিও ধারণকারী ওই শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা গেছে, বোর্ডের খাতা তরে দিয়া দেখায় হেডস্যারের কাজটা ঠিক হয় নাই, তুই ভালা কইরা নম্বর দিস। এগুলো ছাত্রছাত্রীর লাইফ। তখন খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে বলেতে শোনা গেছে, আমি খাতা দেখতাছি এটা ভালা, আমি যতগুলোরা পাস করাইছি বাচ্চু স্যার জীবনেও এই নম্বর দিত না।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বাচ্চু স্যার এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের কিছু খাতা আমাকে দিয়েছেন মূল্যায়ন করার জন্য, আমি খাতা দেখে নম্বর দিয়েছি। এটা দেখা ঠিক হয়নি আমার।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফুল ইসলাম ও অলি আহম্মেদ বলেন, একটি উত্তরপত্র একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একজন দশম শ্রেণীর ছাত্রকে দিয়ে করাচ্ছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে পারছি না। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন তিনি মূল্যায়নকৃত খাতা জমা দেওয়ার জন্য বোর্ডে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়ার ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেওয়ান মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বোর্ডের বণ্টন করা পাবলিক পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করা অনৈতিক ও গুরুতর অপরাধ। খাতা মূল্যায়ন তো দূরের কথা, খাতা দেখারও সুযোগ নেই। যেই শিক্ষক এই কাজ করিয়েছেন তিনি বড় অপরাধ করেছেন। তবে তিনি আমাকে বলেছেন খাতার টপসীট লেখিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি হয়েছে, তদন্ত করে বোর্ডে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার উত্তরপত্র একটি গোপনীয় দলিল। কোনোভাবেই প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ব্যতীত অন্য কেউ যেমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পরীক্ষকের পরিবারের সদস্য উত্তরপত্রে বৃত্ত ভরাট বা মূল্যায়ন করতে পারবে না। কেউ এমন করলে পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ১৯৮০ সালের আইন অনুযায়ী তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের ২ বছরের জেল বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দশম শ্রেণির ছাত্র দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় শিক্ষা বোর্ডের বণ্টন করা ২০২৪-২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের খাতা দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করার অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিকালে এলাকাবাসীর পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও অলি আহম্মেদ নামে দুই ব্যক্তি দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত ২১ জুন দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সদ্যসমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের উত্তরপত্র একটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে মূল্যায়ন করছেন ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। এ সময় তার পাশে উত্তরপত্রের আরও কয়েকটি স্তূপ রাখা ছিল। পরে এক শিক্ষার্থী খাতার দেখার ভিডিও করেন। ভিডিও ধারণকারী ওই শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা গেছে, বোর্ডের খাতা তরে দিয়া দেখায় হেডস্যারের কাজটা ঠিক হয় নাই, তুই ভালা কইরা নম্বর দিস। এগুলো ছাত্রছাত্রীর লাইফ। তখন খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে বলেতে শোনা গেছে, আমি খাতা দেখতাছি এটা ভালা, আমি যতগুলোরা পাস করাইছি বাচ্চু স্যার জীবনেও এই নম্বর দিত না।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বাচ্চু স্যার এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের কিছু খাতা আমাকে দিয়েছেন মূল্যায়ন করার জন্য, আমি খাতা দেখে নম্বর দিয়েছি। এটা দেখা ঠিক হয়নি আমার।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফুল ইসলাম ও অলি আহম্মেদ বলেন, একটি উত্তরপত্র একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একজন দশম শ্রেণীর ছাত্রকে দিয়ে করাচ্ছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে পারছি না। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন তিনি মূল্যায়নকৃত খাতা জমা দেওয়ার জন্য বোর্ডে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়ার ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেওয়ান মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বোর্ডের বণ্টন করা পাবলিক পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করা অনৈতিক ও গুরুতর অপরাধ। খাতা মূল্যায়ন তো দূরের কথা, খাতা দেখারও সুযোগ নেই। যেই শিক্ষক এই কাজ করিয়েছেন তিনি বড় অপরাধ করেছেন। তবে তিনি আমাকে বলেছেন খাতার টপসীট লেখিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি হয়েছে, তদন্ত করে বোর্ডে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার উত্তরপত্র একটি গোপনীয় দলিল। কোনোভাবেই প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ব্যতীত অন্য কেউ যেমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পরীক্ষকের পরিবারের সদস্য উত্তরপত্রে বৃত্ত ভরাট বা মূল্যায়ন করতে পারবে না। কেউ এমন করলে পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ১৯৮০ সালের আইন অনুযায়ী তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের ২ বছরের জেল বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।