ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাতে বড় ধস: এক বছরে লোকসান ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়েছে। ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের কারণে গত বছর সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের নিট লোকসান হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট–২০২৫ অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই প্রথমবারের মতো পুরো খাতের এমন বড় লোকসান।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই লোকসানের বড় অংশই এসেছে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয় থেকে। বিশেষ করে একীভূত হওয়া ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হিসেবে উঠে এসেছে। শীর্ষ লোকসানের মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার লোকসান ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে সমস্যাগ্রস্ত বা ডিস্ট্রেসড ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। গত বছরের শেষে এই ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৫৯.৭৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর তারল্য ও মুনাফার ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো আর্থিক খাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্যাংক খাতে বড় ধস: এক বছরে লোকসান ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়েছে। ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের কারণে গত বছর সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের নিট লোকসান হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট–২০২৫ অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই প্রথমবারের মতো পুরো খাতের এমন বড় লোকসান।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই লোকসানের বড় অংশই এসেছে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয় থেকে। বিশেষ করে একীভূত হওয়া ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হিসেবে উঠে এসেছে। শীর্ষ লোকসানের মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার লোকসান ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে সমস্যাগ্রস্ত বা ডিস্ট্রেসড ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। গত বছরের শেষে এই ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৫৯.৭৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর তারল্য ও মুনাফার ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো আর্থিক খাতে।