বিএনপির ১৭তম বাজেট: দুই দশক পর প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৪৮৪ বার পড়া হয়েছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর দেশের মোট ৫৫টি বাজেটের মধ্যে বিএনপির উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রীয় বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনার দায়িত্বে ফিরছে দলটি।
বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে বিএনপির নাম উচ্চারিত হলেই সামনে আসে মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নাম। অর্থনৈতিক সংস্কার, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে তার ভূমিকা আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়। জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ডও দীর্ঘদিন ধরে তার দখলে রয়েছে।
২০০৬ সালের ৬ জুন বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন এম সাইফুর রহমান। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অতিক্রম করে প্রায় ২০ বছর পর আবারও বিএনপি সরকারের বাজেট আসছে জাতীয় সংসদে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে বাজেট প্রণয়নে বিএনপির প্রত্যাবর্তন ঘটছে।
জিয়ার হাত ধরে সূচনা
স্বাধীনতার পর বিএনপির বাজেট যাত্রার সূচনা হয়েছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। ১৯৭৬ সালের ২৬ জুন তিনি প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। পরবর্তী তিন অর্থবছরে তিনি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বাজেট ঘোষণা করেন।
১৯৭৯ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা নূরুল হুদা। এরপর ১৯৮০ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন এম সাইফুর রহমান, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে এলে আবারও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যেতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করেন।
মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রবর্তন, বাণিজ্য উদারীকরণ, করব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার মতো সিদ্ধান্তগুলো দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের আধুনিক রাজস্ব কাঠামো এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরিতে তার অবদান ছিল অনন্য।
রেকর্ড গড়া ১২তম বাজেট
২০০৬-০৭ অর্থবছরের জন্য ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এম সাইফুর রহমান তার ১২তম ও শেষ বাজেট পেশ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড গড়েন তিনি।
পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করলেও প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন এম সাইফুর রহমান।
নতুন বাস্তবতায় বিএনপির প্রত্যাবর্তন
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট উপস্থাপন করতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে এই বাজেটকে।
বিগত ১০ অর্থবছরের বাজেটের আকার কেমন ছিল
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।























