ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ দিনের ছুটি, ক্লাস হবে ৩৮ দিন আদালতে খুলছে জাবেদের ‘ছক’: জাল ট্রেড লাইসেন্স,মিথ্যা পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব, ২৫ কোটির ঋণ চুল পড়া কমাতে রোজমেরি হেয়ার স্প্রে, ঘরেই তৈরি করুন সহজ উপায়ে তৃতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে ২০২৮ সালে ভোটে লড়বেন ট্রাম্প জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া, পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী যশোরে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক, তদন্তে র‌্যাব যশোরে ৫ স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: আইনমন্ত্রী সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, তদন্তের আবেদন রাষ্ট্রপতি দৌড়ে নারী চমক? নতুন সমীকরণে সরগরম রাজনীতি

আদালতে খুলছে জাবেদের ‘ছক’: জাল ট্রেড লাইসেন্স,মিথ্যা পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব, ২৫ কোটির ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটি ভুয়া ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান, একটি জাল ট্রেড লাইসেন্স আর মিথ্যা পরিচয়ে খোলা একটি ব্যাংক হিসাব। এভাবেই শুরুটা হয়েছিল। গম, হলুদ, ছোলা, মটর আমদানির গল্প সাজানো হয়েছিল শুধু কাগজে-কলমে, বাস্তবে কোনো আমদানিই হয়নি। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বিভাগ ১৭ বার সতর্ক করলেও পরিচালনা পর্ষদ তা আমলে নেয়নি। অনুমোদন হয়ে যায় ২৫ কোটি টাকার ঋণ। এরপর সেই টাকা ছড়িয়ে দেওয়া হয় চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে। এরপর নগদে তুলে নিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায় বিদেশে। শেষমেশ একাংশ ফিরে আসে জাবেদের নিজের প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দায় সমন্বয়ের ছদ্মবেশে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে এই মামলায় রোববার (২৬ জুলাই) আরও ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

সাক্ষ্যের সংখ্যা ৩৫
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, চার সাক্ষীই হলেন ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাদের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৬ আগস্ট।

চেয়ারে ছিলেন না, তবু শেষ কথা ছিল তারই
পরিচালনা পর্ষদে নামই ছিল না তার, অথচ প্রতিটি সভায় শেষ কথা বলতেন তিনিই। ইউসিবির চার কর্মকর্তা আদালতে দাঁড়িয়ে এমনই বর্ণনা দিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ‘ছায়া নিয়ন্ত্রণে’র।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, রোববার (২৬ জুলাই) মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে ইউসিবির চার কর্মকর্তা আদালতকে বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদে না থেকেও সাইফুজ্জামান চৌধুরী পর্ষদের সব সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রাখতেন নিজে উপস্থিত থেকে। এমনকি পর্ষদের সভায় তার কথাই ছিল শেষ কথা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের হাতে ছিল বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ। শুরু থেকে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত থাকা অনন্ত গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের বাধ্য করা হয় ইউসিবি ছেড়ে যেতে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি পুরোপুরি দখলে নেয় জাবেদের পরিবার। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হন জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তবে যুক্তরাজ্যে থাকা স্ত্রীর পক্ষে ব্যাংকটি প্রকৃতপক্ষে পরিচালনা করতেন সাইফুজ্জামান নিজেই। এই সময়ের মধ্যে ইউসিবি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বের করে নেওয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে দেয়।

মামলা যেভাবে গড়াল
মামলাটির সূত্রপাত গত বছরের ২৪ জুলাই। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান সেদিন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ জনে। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর ১১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য হয় ৫ এপ্রিল। সেদিন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান নিজেই প্রথম সাক্ষ্য দেন।

যেভাবে সাজানো হয় ছক
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মো. ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করা হয়। সেই লাইসেন্স দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিন মেয়াদি টাইম লোনের আবেদন করে। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে।

টাকা যেভাবে সরানো হয়
দুদকের ভাষ্যে, অনুমোদিত ওই ঋণের অর্থ ‘নামসর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে নগদে উত্তোলন করা হয়। এরপর হুন্ডির মাধ্যমে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কেনা হয় এবং একাংশ জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা দেখিয়ে দায় সমন্বয় করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আসামি
তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্যে, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইনের ভাষ্যে, মামলাটিতে মোট সাক্ষী ৯৬ জন, যদিও অভিযোগপত্রে সাক্ষীর তালিকায় নাম রয়েছে ৯২ জনের।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, ছোট ভাই ও সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং বোন রোকসানা জামান চৌধুরী। এছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন এই মামলায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আদালতে খুলছে জাবেদের ‘ছক’: জাল ট্রেড লাইসেন্স,মিথ্যা পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব, ২৫ কোটির ঋণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

একটি ভুয়া ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান, একটি জাল ট্রেড লাইসেন্স আর মিথ্যা পরিচয়ে খোলা একটি ব্যাংক হিসাব। এভাবেই শুরুটা হয়েছিল। গম, হলুদ, ছোলা, মটর আমদানির গল্প সাজানো হয়েছিল শুধু কাগজে-কলমে, বাস্তবে কোনো আমদানিই হয়নি। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বিভাগ ১৭ বার সতর্ক করলেও পরিচালনা পর্ষদ তা আমলে নেয়নি। অনুমোদন হয়ে যায় ২৫ কোটি টাকার ঋণ। এরপর সেই টাকা ছড়িয়ে দেওয়া হয় চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে। এরপর নগদে তুলে নিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায় বিদেশে। শেষমেশ একাংশ ফিরে আসে জাবেদের নিজের প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দায় সমন্বয়ের ছদ্মবেশে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে এই মামলায় রোববার (২৬ জুলাই) আরও ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

সাক্ষ্যের সংখ্যা ৩৫
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, চার সাক্ষীই হলেন ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাদের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৬ আগস্ট।

চেয়ারে ছিলেন না, তবু শেষ কথা ছিল তারই
পরিচালনা পর্ষদে নামই ছিল না তার, অথচ প্রতিটি সভায় শেষ কথা বলতেন তিনিই। ইউসিবির চার কর্মকর্তা আদালতে দাঁড়িয়ে এমনই বর্ণনা দিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ‘ছায়া নিয়ন্ত্রণে’র।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, রোববার (২৬ জুলাই) মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে ইউসিবির চার কর্মকর্তা আদালতকে বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদে না থেকেও সাইফুজ্জামান চৌধুরী পর্ষদের সব সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রাখতেন নিজে উপস্থিত থেকে। এমনকি পর্ষদের সভায় তার কথাই ছিল শেষ কথা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের হাতে ছিল বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ। শুরু থেকে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত থাকা অনন্ত গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের বাধ্য করা হয় ইউসিবি ছেড়ে যেতে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি পুরোপুরি দখলে নেয় জাবেদের পরিবার। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হন জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তবে যুক্তরাজ্যে থাকা স্ত্রীর পক্ষে ব্যাংকটি প্রকৃতপক্ষে পরিচালনা করতেন সাইফুজ্জামান নিজেই। এই সময়ের মধ্যে ইউসিবি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বের করে নেওয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে দেয়।

মামলা যেভাবে গড়াল
মামলাটির সূত্রপাত গত বছরের ২৪ জুলাই। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান সেদিন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ জনে। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর ১১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য হয় ৫ এপ্রিল। সেদিন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান নিজেই প্রথম সাক্ষ্য দেন।

যেভাবে সাজানো হয় ছক
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মো. ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করা হয়। সেই লাইসেন্স দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিন মেয়াদি টাইম লোনের আবেদন করে। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে।

টাকা যেভাবে সরানো হয়
দুদকের ভাষ্যে, অনুমোদিত ওই ঋণের অর্থ ‘নামসর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে নগদে উত্তোলন করা হয়। এরপর হুন্ডির মাধ্যমে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কেনা হয় এবং একাংশ জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা দেখিয়ে দায় সমন্বয় করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আসামি
তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্যে, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইনের ভাষ্যে, মামলাটিতে মোট সাক্ষী ৯৬ জন, যদিও অভিযোগপত্রে সাক্ষীর তালিকায় নাম রয়েছে ৯২ জনের।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, ছোট ভাই ও সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং বোন রোকসানা জামান চৌধুরী। এছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন এই মামলায়।