১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: আইনমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত দাবি নয়; আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এ মন্তব্য করছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যার পরিমাণ বর্তমান সময়ের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি খুলনায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয় এবং পিরোজপুরে এলজিইডির হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় শিখতে হবে এবং অর্থের পেছনে না ছুটে ন্যায়বিচার, মানুষের সেবা ও পেশাগত সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে। নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আইনজীবীদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পেশাগত সততা, সামাজিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে। জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানির শিকার হোক; তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।




















