ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তিতে ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৩ জেলার ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগীর মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সরকারের এ সহায়তা কর্মসূচিকে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা সঞ্চয় ভাঙতে হয়। সরকারি এই অনুদান চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি আবেদন যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হলেও দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।

তিনি বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই বরাদ্দ অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ ছাড় ও বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা সহায়তা পেতে বিলম্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই আবেদন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয় না। অনেক রোগী দেরিতে আবেদন করেন, ফলে প্রয়োজনীয় সহায়তা সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা গত ২৩ মে জারি করা এক আদেশে এ বরাদ্দের তথ্য জানায়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এপ্রিল-জুন মেয়াদের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর আগারগাঁও শাখার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে অর্থ স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জেলা ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ৬২৫ জন রোগীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া কুমিল্লা-র ৪২৩ জনের জন্য ২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহ-এর ৪০২ জনের জন্য ২ কোটি ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বগুড়া ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় এক কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের রোগীরাও এই সহায়তার আওতায় এসেছেন। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার রোগীদের জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে সরকার কয়েক বছর ধরে এ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সরকারি সহায়তা অনেক রোগীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারের এই সহায়তা শুধু চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাবে না, বরং আর্থিক সংকটে থাকা হাজারো পরিবারকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নতুন সাহস ও সুযোগ করে দেবে। এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তিতে ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৩ জেলার ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগীর মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সরকারের এ সহায়তা কর্মসূচিকে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা সঞ্চয় ভাঙতে হয়। সরকারি এই অনুদান চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি আবেদন যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হলেও দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।

তিনি বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই বরাদ্দ অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ ছাড় ও বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা সহায়তা পেতে বিলম্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই আবেদন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয় না। অনেক রোগী দেরিতে আবেদন করেন, ফলে প্রয়োজনীয় সহায়তা সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা গত ২৩ মে জারি করা এক আদেশে এ বরাদ্দের তথ্য জানায়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এপ্রিল-জুন মেয়াদের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর আগারগাঁও শাখার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে অর্থ স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জেলা ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ৬২৫ জন রোগীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া কুমিল্লা-র ৪২৩ জনের জন্য ২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহ-এর ৪০২ জনের জন্য ২ কোটি ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বগুড়া ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় এক কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের রোগীরাও এই সহায়তার আওতায় এসেছেন। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার রোগীদের জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে সরকার কয়েক বছর ধরে এ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সরকারি সহায়তা অনেক রোগীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারের এই সহায়তা শুধু চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাবে না, বরং আর্থিক সংকটে থাকা হাজারো পরিবারকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নতুন সাহস ও সুযোগ করে দেবে। এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।