ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকবাংলোর নিঃশব্দ কক্ষে থেমে গেল তিনটি জীবন

বরগুনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকালে দুই শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে কাজে এসেছিলেন স্মৃতি রানী। প্রতিদিনের মতো হয়তো দিনটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষভাগে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হলো তার এবং দুই শিশু সন্তানের নিথর দেহ।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষ থেকে প্রথমে প্রায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে পাওয়া যায় স্মৃতি রানী ও তার প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক কন্যাশিশুর মরদেহ।

স্মৃতি রানী বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের দায়িত্ব, জীবনের নানা চাপ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছিল তার সংগ্রাম।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, স্মৃতি রানী ঋণের চাপে ছিলেন। সেই মানসিক ও আর্থিক সংকটই তাকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কী এমন ঘটেছিল, যে একজন মা নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের ইতি টানার পথ বেছে নিলেন—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

বরগুনার একটি ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ আজ শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, নীরবে বলে যাচ্ছে এক অসহায় জীবনের শেষ অধ্যায়ের গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডাকবাংলোর নিঃশব্দ কক্ষে থেমে গেল তিনটি জীবন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সকালে দুই শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে কাজে এসেছিলেন স্মৃতি রানী। প্রতিদিনের মতো হয়তো দিনটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষভাগে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হলো তার এবং দুই শিশু সন্তানের নিথর দেহ।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষ থেকে প্রথমে প্রায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে পাওয়া যায় স্মৃতি রানী ও তার প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক কন্যাশিশুর মরদেহ।

স্মৃতি রানী বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের দায়িত্ব, জীবনের নানা চাপ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছিল তার সংগ্রাম।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, স্মৃতি রানী ঋণের চাপে ছিলেন। সেই মানসিক ও আর্থিক সংকটই তাকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কী এমন ঘটেছিল, যে একজন মা নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের ইতি টানার পথ বেছে নিলেন—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

বরগুনার একটি ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ আজ শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, নীরবে বলে যাচ্ছে এক অসহায় জীবনের শেষ অধ্যায়ের গল্প।