উন্নয়নের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৭০ কিলোমিটার সড়ক
সামান্য বৃষ্টিতেই কাদার সাগর, সীমান্তে পৌঁছাতে হিমশিম বিজিবি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো ও সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের দ্রুত পৌঁছানো প্রয়োজন হলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা।
জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদায় পরিণত হওয়া এসব সড়কে বিজিবির টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত, কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বও থাকে না। ফলে সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) ক্যাম্পে যাওয়ার প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরা এ সড়ক বর্ষায় প্রায় অচল হয়ে পড়ে। টহল যান, পিকআপ এমনকি মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিজিবি সদস্যদের।
স্থানীয়রা জানান, হরিপুর উপজেলার বেতনা, বসতপুর ও ডাবরী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কান্তিভিটা, পীরগঞ্জের বৈরচুনা এবং রাণীশংকৈলের জগদল ও ধর্মগড় সীমান্ত এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকার সীমান্ত ফাঁড়িতে নিয়মিত নজরদারি চালালেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে অনেক সময় বাধার মুখে পড়তে হয়।
ধর্মগড় এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ আলী বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিজিবির গাড়ি চলাচল তো আরও কঠিন। জরুরি সময়ে দ্রুত যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।”
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক উন্নয়ন জরুরি। তাদের মতে, সীমান্তে যারা দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত, তাদের চলাচলের পথ উন্নত না হওয়া দুঃখজনক। একই সঙ্গে ভালো সড়ক হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত অপরাধ দমনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোরাচালান বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত পৌঁছাতে না পারলে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই সীমান্ত সড়ক উন্নয়নকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস জানান, সীমান্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক উন্নয়নের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে ধাপে ধাপে এসব সড়কের উন্নয়ন করা হবে।
৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কাঁচা রাস্তা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষাকালে টহল কার্যক্রমে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সড়কগুলো পাকা হলে নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।”
সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে সীমান্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। কারণ উন্নত সড়ক শুধু যোগাযোগ নয়, এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সীমান্তবাসীর জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।

















