সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
খেলাপি ঋণ উদ্ধারে বিদেশি আইনি সহায়তা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাব রয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক সেবার আওতায় আনতে সরকার ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’ (এনএফআইএস) প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে দেশে ফেরাতে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ করেছে ব্যাংকগুলো।
তিনি বলেন, ‘নো উইন নো ফি’ ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের। প্রথম ধাপে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ–সংক্রান্ত ছয়টি মামলা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬টি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছেন ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা ও ৪ হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।
একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে তিনি জানান, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫’-এর আওতায় আনা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংকটে থাকা অন্য ব্যাংকের বিরুদ্ধেও ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















