ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতেই এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৩ জুন ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এ ঋণ অনুমোদন করে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি ব্যাংক রেজোলিউশন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে এ প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের সক্ষমতা বাড়ানো, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো তৈরি, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে ঋণ দেওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি। খেলাপি ঋণের উচ্চ হারও ব্যাংক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের পরিচালক জঁ পেম বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশের একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ তোশিয়াকি ওনো জানান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতেই এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৩ জুন ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এ ঋণ অনুমোদন করে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি ব্যাংক রেজোলিউশন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে এ প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের সক্ষমতা বাড়ানো, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো তৈরি, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে ঋণ দেওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি। খেলাপি ঋণের উচ্চ হারও ব্যাংক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের পরিচালক জঁ পেম বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশের একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ তোশিয়াকি ওনো জানান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।