ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, দুই সিটির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালিয়ে ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও টাঙ্গাইল শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে প্রতিমন্ত্রী টুকু মুষলধারে বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি রাজশাহীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়াল

মায়ের কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু, হাসপাতালের বারান্দায় দীর্ঘশ্বাস—ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাম

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে আবারও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে এখন শুধুই কান্না, উৎকণ্ঠা আর স্বজনদের অসহায় অপেক্ষা।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৪ জন। সোমবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মারা গেছে ৫৪৫ শিশু। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৫৮ শিশু।

এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭১৯। পাশাপাশি হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে। শুধু এই বিভাগেই মৃত্যু হয়েছে ২৩১ শিশুর, আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৭০৬ জন।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক মা-বাবা জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ছটফট করা সন্তানকে কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চিকিৎসার আশায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, মৃতদের অধিকাংশই শিশু। তীব্র জ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে হাসপাতালে আনা এবং টিকা না নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ থেকেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ। তাই হঠাৎ জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—প্রতিটি অভিভাবকের সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি।

কারণ, একটি ছোট্ট অবহেলাই কেড়ে নিতে পারে একটি শিশুর জীবন, আর শূন্য করে দিতে পারে একটি পরিবারের সমস্ত আনন্দ।

দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের হামের টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১২২ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রথম ধাপে যে ১৮ উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল, সেখানে হামের সংক্রমণের হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পুরাতন ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শন করেন। ঈদুল আজহার আগে হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা দেখতে কুমিল্লায় এই সফরে আসেন।

হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্ত চাইছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি যদি ১০ জন মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও হামে সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাবো? শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের রক্ষা করা এবং কোনো মায়ের বুক যেন সন্তান হারানোর বেদনায় খালি না হয়, তা নিশ্চিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মায়ের কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু, হাসপাতালের বারান্দায় দীর্ঘশ্বাস—ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দেশজুড়ে আবারও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে এখন শুধুই কান্না, উৎকণ্ঠা আর স্বজনদের অসহায় অপেক্ষা।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৪ জন। সোমবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মারা গেছে ৫৪৫ শিশু। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৫৮ শিশু।

এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭১৯। পাশাপাশি হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে। শুধু এই বিভাগেই মৃত্যু হয়েছে ২৩১ শিশুর, আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৭০৬ জন।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক মা-বাবা জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ছটফট করা সন্তানকে কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চিকিৎসার আশায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, মৃতদের অধিকাংশই শিশু। তীব্র জ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে হাসপাতালে আনা এবং টিকা না নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ থেকেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ। তাই হঠাৎ জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—প্রতিটি অভিভাবকের সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি।

কারণ, একটি ছোট্ট অবহেলাই কেড়ে নিতে পারে একটি শিশুর জীবন, আর শূন্য করে দিতে পারে একটি পরিবারের সমস্ত আনন্দ।

দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের হামের টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১২২ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রথম ধাপে যে ১৮ উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল, সেখানে হামের সংক্রমণের হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পুরাতন ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শন করেন। ঈদুল আজহার আগে হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা দেখতে কুমিল্লায় এই সফরে আসেন।

হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্ত চাইছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি যদি ১০ জন মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও হামে সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাবো? শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের রক্ষা করা এবং কোনো মায়ের বুক যেন সন্তান হারানোর বেদনায় খালি না হয়, তা নিশ্চিত করা।