ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের ঢেউ নদীপথেও, লঞ্চ ভাড়া বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে নদীপথেও। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে—বিশেষ করে যারা প্রতিদিন নদীপথে ভরসা করে বাড়ি ফেরেন বা জীবিকার তাগিদে যাতায়াত করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ পরিচালনার খরচ প্রায় ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যানের কাছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, লঞ্চভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়াও ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ডিজেলের দাম নয়—ইঞ্জিন, প্রপেলার, যন্ত্রাংশ, রংসহ প্রায় সব ধরনের খরচই বেড়ে গেছে। তার ওপর যাত্রীসংখ্যাও কমে গেছে, কারণ সড়কপথের উন্নতির কারণে অনেকেই এখন নদীপথ এড়িয়ে চলছেন। ফলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে গেছে—এই দুই চাপেই পড়েছে খাতটি।

একটি উদাহরণ দিয়ে তারা জানাচ্ছেন, ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে একটি লঞ্চ চালাতে ৬ থেকে ৭ ব্যারেল ডিজেল লাগে। নতুন দামে শুধু জ্বালানিতেই অতিরিক্ত প্রায় ২১ হাজার টাকার মতো খরচ যোগ হচ্ছে।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করলে এই খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন সরকারের ওপর, এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জ্বালানির নতুন দামের প্রভাব বিশ্লেষণ করে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত হবে।

এই হিসাব-নিকাশের বাইরে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। নদীপথে যাদের কাছে জীবনযাত্রার সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল লঞ্চ, ভাড়া বাড়লে তাদের জন্য সেটিও হয়ে উঠবে আরেকটি বাড়তি চাপ।

একদিকে তেলের দাম, অন্যদিকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি—এই দুইয়ের মাঝে এখন দাঁড়িয়ে আছে নদীপথের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা, আর সেই চাপ নীরবে অনুভব করছে সাধারণ মানুষই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জ্বালানি তেলের ঢেউ নদীপথেও, লঞ্চ ভাড়া বাড়ছে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে নদীপথেও। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে—বিশেষ করে যারা প্রতিদিন নদীপথে ভরসা করে বাড়ি ফেরেন বা জীবিকার তাগিদে যাতায়াত করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ পরিচালনার খরচ প্রায় ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যানের কাছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, লঞ্চভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়াও ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ডিজেলের দাম নয়—ইঞ্জিন, প্রপেলার, যন্ত্রাংশ, রংসহ প্রায় সব ধরনের খরচই বেড়ে গেছে। তার ওপর যাত্রীসংখ্যাও কমে গেছে, কারণ সড়কপথের উন্নতির কারণে অনেকেই এখন নদীপথ এড়িয়ে চলছেন। ফলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে গেছে—এই দুই চাপেই পড়েছে খাতটি।

একটি উদাহরণ দিয়ে তারা জানাচ্ছেন, ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে একটি লঞ্চ চালাতে ৬ থেকে ৭ ব্যারেল ডিজেল লাগে। নতুন দামে শুধু জ্বালানিতেই অতিরিক্ত প্রায় ২১ হাজার টাকার মতো খরচ যোগ হচ্ছে।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করলে এই খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন সরকারের ওপর, এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জ্বালানির নতুন দামের প্রভাব বিশ্লেষণ করে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত হবে।

এই হিসাব-নিকাশের বাইরে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। নদীপথে যাদের কাছে জীবনযাত্রার সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল লঞ্চ, ভাড়া বাড়লে তাদের জন্য সেটিও হয়ে উঠবে আরেকটি বাড়তি চাপ।

একদিকে তেলের দাম, অন্যদিকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি—এই দুইয়ের মাঝে এখন দাঁড়িয়ে আছে নদীপথের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা, আর সেই চাপ নীরবে অনুভব করছে সাধারণ মানুষই।