ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ৪১% বেড়েছে

অর্থপাচার নিয়ে নতুন বিতর্ক ও উদ্বেগ

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাবে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি

২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তথ্যটি উঠে এসেছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (SNB) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ সুইস ফ্রাঁ ≈ ১৫২ টাকা ধরে) এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

অর্থপাচার নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ

সুইস ব্যাংকে অর্থ বৃদ্ধি পাওয়ার এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে আবারও অর্থপাচার ইস্যু সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে অর্থ জমা বৃদ্ধি সবসময় সরাসরি পাচারের প্রমাণ নয়, তবে এটি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, হুন্ডি নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরের কারণে এই প্রবণতা বাড়তে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার এই প্রবণতা অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করছে।

সুইস ব্যাংকের অর্থ কী বোঝায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই পাচার করা অর্থ নয়। এতে ব্যক্তিগত সঞ্চয়, বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন এবং প্রবাসীদের অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তবে অতীতে সুইস ব্যাংককে অর্থ লুকানোর নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় চুক্তির কারণে গোপনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।

১০ বছরের প্রবণতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ তুলনামূলকভাবে কমে গেলেও ২০২৫ সালে আবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থপাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারি, আইনি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ৪১% বেড়েছে

অর্থপাচার নিয়ে নতুন বিতর্ক ও উদ্বেগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাবে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি

২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তথ্যটি উঠে এসেছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (SNB) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ সুইস ফ্রাঁ ≈ ১৫২ টাকা ধরে) এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

অর্থপাচার নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ

সুইস ব্যাংকে অর্থ বৃদ্ধি পাওয়ার এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে আবারও অর্থপাচার ইস্যু সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে অর্থ জমা বৃদ্ধি সবসময় সরাসরি পাচারের প্রমাণ নয়, তবে এটি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, হুন্ডি নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরের কারণে এই প্রবণতা বাড়তে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার এই প্রবণতা অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করছে।

সুইস ব্যাংকের অর্থ কী বোঝায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই পাচার করা অর্থ নয়। এতে ব্যক্তিগত সঞ্চয়, বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন এবং প্রবাসীদের অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তবে অতীতে সুইস ব্যাংককে অর্থ লুকানোর নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় চুক্তির কারণে গোপনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।

১০ বছরের প্রবণতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ তুলনামূলকভাবে কমে গেলেও ২০২৫ সালে আবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থপাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারি, আইনি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।