ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে হাট কাঁপাবে ‘জামাল মিয়া’

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রান্তিক খামারিদের কাছে কোরবানির পশু শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো শ্রম আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ভালবাসা,প্ররিশ্রম আর মায়ার এক গল্প। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরে ইসলামপুরে প্রান্তিক খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তি । তার খামারে যেন গড়ে উঠেছে মানুষ আর পশুর এক অন্যরকম মায়ার গল্প। আদর করে নিজের পোষা গরুটির নাম রেখেছেন ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’ । এবার ঈদে হাট কাঁপাবে বিশালাকৃতির জামাল মিয়া।

Jamalpur Cow Jamal Mia 11

উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তির নিজের সন্তানের মতো আদর-যতেœ বড় করেছেন বিশালাকৃতির গরু জামাল মিয়া। ওজন প্রায় ৩৬ মন। কিন্তু শুধু আকারেই নয়, ভালোবাসা আর যতেœও গরুটি পুরো জেলাজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গরুটির জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাবারের পাশাপাশি খেতে দেন মিস্টি আলু ও ফল। এসব নাকি গরুটির খুবই পছন্দনীয় খাবার। এ যেন গরু নয়, পরিবারেরই আপন সদস্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে গরুটি খামার থেকে প্রায় ১০-১২ জন রশি টেনে বের করেন। সামলানো কঠিন তবুও পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। তবে ভয়ে কাছে যেতেই পারেনা কেউ।

গরুটি একনজর দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এমন বড় গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। পার্শবর্তী সোহেল মিয়া বলেন,ওই দম্পত্তি খুব কস্টে এই গরু লালন পালন করেছে। আমরা চাই তিনি যেন ন্যায্য দাম পায়। তাহলে সকলের গরু পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

খামারি জাহিদ মিয়া ও ছাবিনা দম্পত্তি জানান, আড়াই বছর পর নিজের লালন পালন করা বিশাল দেহি গরুটি গোয়ালঘর থেকে বের করেছি। নিজের সন্তানের মত লালন পালন করে বিক্রি করতে খুব কস্ট হচ্ছে। গরুটির নাম রেখেছি জামাল মিয়া। প্রায় ১৪শত কেজি ওজন হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে খাবার খাওয়াইছি। গরুটি দামি ফল ও মিস্টি আলু খেতে পছন্দ। দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ নয়, শুধুই যতœ আর পরিচর্যায় আজকের এই বিশালাকৃতি জামাল মিয়া।

জাহিদ মিয়া বলেন, হালাল রুজির আশায় চাকরী ছেড়ে খামার দিয়েছি। গরুটি বিক্রি হয়ে যাবে ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। তবুও সংসারের টানে বিক্রি করতে হবে। আমার আশা যাতে আমি ন্যায্য দাম পাই। ৯লাখ টাকা বিক্রি না করতে পারলে লোকসান হবে। ন্যায্য মূলে গরুটি বিক্রি হবে বলে আশা রাখছি।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলীম বলেন, খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। সঠিক পরিচর্যা আর ধৈর্যের ফলেই এমন সফলতা এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদে হাট কাঁপাবে ‘জামাল মিয়া’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

প্রান্তিক খামারিদের কাছে কোরবানির পশু শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো শ্রম আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ভালবাসা,প্ররিশ্রম আর মায়ার এক গল্প। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরে ইসলামপুরে প্রান্তিক খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তি । তার খামারে যেন গড়ে উঠেছে মানুষ আর পশুর এক অন্যরকম মায়ার গল্প। আদর করে নিজের পোষা গরুটির নাম রেখেছেন ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’ । এবার ঈদে হাট কাঁপাবে বিশালাকৃতির জামাল মিয়া।

Jamalpur Cow Jamal Mia 11

উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তির নিজের সন্তানের মতো আদর-যতেœ বড় করেছেন বিশালাকৃতির গরু জামাল মিয়া। ওজন প্রায় ৩৬ মন। কিন্তু শুধু আকারেই নয়, ভালোবাসা আর যতেœও গরুটি পুরো জেলাজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গরুটির জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাবারের পাশাপাশি খেতে দেন মিস্টি আলু ও ফল। এসব নাকি গরুটির খুবই পছন্দনীয় খাবার। এ যেন গরু নয়, পরিবারেরই আপন সদস্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে গরুটি খামার থেকে প্রায় ১০-১২ জন রশি টেনে বের করেন। সামলানো কঠিন তবুও পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। তবে ভয়ে কাছে যেতেই পারেনা কেউ।

গরুটি একনজর দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এমন বড় গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। পার্শবর্তী সোহেল মিয়া বলেন,ওই দম্পত্তি খুব কস্টে এই গরু লালন পালন করেছে। আমরা চাই তিনি যেন ন্যায্য দাম পায়। তাহলে সকলের গরু পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

খামারি জাহিদ মিয়া ও ছাবিনা দম্পত্তি জানান, আড়াই বছর পর নিজের লালন পালন করা বিশাল দেহি গরুটি গোয়ালঘর থেকে বের করেছি। নিজের সন্তানের মত লালন পালন করে বিক্রি করতে খুব কস্ট হচ্ছে। গরুটির নাম রেখেছি জামাল মিয়া। প্রায় ১৪শত কেজি ওজন হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে খাবার খাওয়াইছি। গরুটি দামি ফল ও মিস্টি আলু খেতে পছন্দ। দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ নয়, শুধুই যতœ আর পরিচর্যায় আজকের এই বিশালাকৃতি জামাল মিয়া।

জাহিদ মিয়া বলেন, হালাল রুজির আশায় চাকরী ছেড়ে খামার দিয়েছি। গরুটি বিক্রি হয়ে যাবে ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। তবুও সংসারের টানে বিক্রি করতে হবে। আমার আশা যাতে আমি ন্যায্য দাম পাই। ৯লাখ টাকা বিক্রি না করতে পারলে লোকসান হবে। ন্যায্য মূলে গরুটি বিক্রি হবে বলে আশা রাখছি।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলীম বলেন, খামারি জাহিদ ছাবিনা দম্পত্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। সঠিক পরিচর্যা আর ধৈর্যের ফলেই এমন সফলতা এসেছে।