ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি শিবিরের, নিয়োগে দলীয় প্রভাব বন্ধের আহ্বান তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দখলের অভিযোগ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ:ডাচ-বাংলার ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিতে অপেক্ষা ১০ বছর, কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি ৭ নভেম্বর উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী মহেশপুর সীমান্তের ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ, পরিচয় মিলেছে যশোরে কাঁঠালিয়ায় অবৈধ ইটভাটার ১২০ ফুট চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন যশোরে শিশু-কিশোরদের ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ, ব্যয়ের চাপ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এনআইডি সংশোধনের আড়ালে সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার জালিয়াতি

তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দখলের অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জোরপূর্বক দখলচেষ্টা, ফসল কেটে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে জমিটি ভোগদখলে রাখার দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে একটি পরিবার। তবে জমির মালিকানা নিজেদের বলে পাল্টা দাবি করেছে বিরোধী পক্ষও।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, মাথাফাটা মৌজায় ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমি তাঁদের পরিবার প্রায় ৬৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। তাঁদের দাবি, জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও কাগজপত্রও রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আলী আকবর, সিরাজুল ইসলাম, জাহেরুল, জিরারুল, খলিলুর, সাহাদত ও আব্দুর রাজ্জাক ওরফে লেদুসহ কয়েকজন জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে তাঁদের আবাদ করা ধান কেটে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরিবারটির অভিযোগ, জমির কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পেশিশক্তি প্রয়োগ করে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা আমাদের জমিও দখল করেছেন। শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি, মিথ্যা মামলা দিয়ে কয়েক বছর ধরে আমাদের হয়রানি করে আসছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

একই ধরনের অভিযোগ করেন সুরুজ আলী। তাঁর ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে তাঁর জমিও দখল করা হয়েছিল। জমির মালিকানার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও দখল ও মামলা দিয়ে তাঁদের মতো অনেক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এ সময় মরহুম আবুলগিরীর স্ত্রী আলহাজ্বা তহুরা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জমিটি তাঁদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি। তাঁর স্বামী জীবিত থাকাকালে কেউ এ জমির মালিকানা দাবি করেননি। এখন কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী পক্ষ। তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। নিজেদের জমিতেই তারা চাষাবাদ করেছে এবং উৎপাদিত ধান কাটছে।

বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, রবিউল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, দখলচেষ্টা বন্ধ, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

পরিবারটির সদস্যরা জানান, তাঁরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না। জমির রেকর্ড ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি চান।

একই জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মালিকানার দাবি থাকায় প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চান স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দখলের অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জোরপূর্বক দখলচেষ্টা, ফসল কেটে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে জমিটি ভোগদখলে রাখার দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে একটি পরিবার। তবে জমির মালিকানা নিজেদের বলে পাল্টা দাবি করেছে বিরোধী পক্ষও।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, মাথাফাটা মৌজায় ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমি তাঁদের পরিবার প্রায় ৬৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। তাঁদের দাবি, জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও কাগজপত্রও রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আলী আকবর, সিরাজুল ইসলাম, জাহেরুল, জিরারুল, খলিলুর, সাহাদত ও আব্দুর রাজ্জাক ওরফে লেদুসহ কয়েকজন জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে তাঁদের আবাদ করা ধান কেটে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরিবারটির অভিযোগ, জমির কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পেশিশক্তি প্রয়োগ করে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা আমাদের জমিও দখল করেছেন। শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি, মিথ্যা মামলা দিয়ে কয়েক বছর ধরে আমাদের হয়রানি করে আসছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

একই ধরনের অভিযোগ করেন সুরুজ আলী। তাঁর ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে তাঁর জমিও দখল করা হয়েছিল। জমির মালিকানার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও দখল ও মামলা দিয়ে তাঁদের মতো অনেক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এ সময় মরহুম আবুলগিরীর স্ত্রী আলহাজ্বা তহুরা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জমিটি তাঁদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি। তাঁর স্বামী জীবিত থাকাকালে কেউ এ জমির মালিকানা দাবি করেননি। এখন কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী পক্ষ। তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। নিজেদের জমিতেই তারা চাষাবাদ করেছে এবং উৎপাদিত ধান কাটছে।

বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, রবিউল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, দখলচেষ্টা বন্ধ, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

পরিবারটির সদস্যরা জানান, তাঁরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না। জমির রেকর্ড ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি চান।

একই জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মালিকানার দাবি থাকায় প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চান স্থানীয়রা।