জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকট ঘিরে বিশৃঙ্খলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। উচ্চ আদালতে জামিন বহাল থাকার পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন আখতারুজ্জামান। এ সময় কারাফটকে ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কামাল হোসেন, সেলিম উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক তাঁর জামিন বহাল রেখে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এর ফলে তাঁর কারামুক্তির আইনি বাধা দূর হয়। আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
এর আগে রোববার হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন বহাল থাকায় মুক্তি পান তিনি।
মামলার আগে গত ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নাকচ হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার পর তাঁর আইনজীবী জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
যে অভিযোগে গ্রেপ্তার
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরে। তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ নিতে ৮ নম্বর বেল্টের কাছে যান।
অভিযোগে বলা হয়, যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ওই সময় ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী সারি না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া লাগেজ পেতে বিলম্ব ও জমজমের পানি না পাওয়া নিয়ে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে মামলার অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন।





















