ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ জেল হত্যা দিবস, কারাগারে প্রাণ হারান জাতীয় চার নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ৩ নভেম্বর, জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে। বন্দি অবস্থায় গুলি ও বেয়োনেটের আঘাতে প্রাণ হারান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে বিশ্লেষকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতরেই প্রথমে গুলি করে এবং পরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

জাতীয় চার নেতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত এই সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তাজউদ্দীন আহমদ দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ছিলেন অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ছিলেন খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি থাকাকালে তাঁদের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।

কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার দিনটি প্রতিবছর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরদিন মামলা হলেও দীর্ঘ সময় বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি। ১৯৯৬ সালে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৩ নভেম্বর তাই শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের দিন নয়, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা চার জাতীয় নেতার নিরাপত্তা ও হত্যার বিচার নিয়ে গভীর আলোচনারও দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ জেল হত্যা দিবস, কারাগারে প্রাণ হারান জাতীয় চার নেতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আজ ৩ নভেম্বর, জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে। বন্দি অবস্থায় গুলি ও বেয়োনেটের আঘাতে প্রাণ হারান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে বিশ্লেষকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতরেই প্রথমে গুলি করে এবং পরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

জাতীয় চার নেতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত এই সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তাজউদ্দীন আহমদ দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ছিলেন অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ছিলেন খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি থাকাকালে তাঁদের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।

কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার দিনটি প্রতিবছর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরদিন মামলা হলেও দীর্ঘ সময় বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি। ১৯৯৬ সালে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৩ নভেম্বর তাই শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের দিন নয়, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা চার জাতীয় নেতার নিরাপত্তা ও হত্যার বিচার নিয়ে গভীর আলোচনারও দিন।