ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোবাইলে আসক্তি, ক্লাসে অনীহা;১৫ বছরে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড সিনেমা, ব্র্যান্ড ও ব্যবসা—শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ কত কোটি? যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, দুই পুলিশ বরখাস্ত জলবায়ু তহবিল ঋণ নয়, অনুদান চায় বাংলাদেশ এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়লো ২২৩ টাকা বিএনপি নেতার করা মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার যশোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ২৬৪ কারখানায় ছুটি বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ভূমিহীনদের নামে পুকুর বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ

চট্টগ্রামে এইচএসসিতে ১৫ বছরের সর্বনিম্ন পাস, ইংরেজিতেই ফেল ৩৪ হাজার

মোবাইলে আসক্তি, ক্লাসে অনীহা;১৫ বছরে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফল এবার বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দেখেছে বোর্ডটি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইংরেজিতে—এ বিষয়ে ফেল করেছে ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। বিভাগভিত্তিক ফলেও স্পষ্ট বৈষম্য; বিজ্ঞানে পাসের হার যেখানে ৭৪ শতাংশের বেশি, মানবিকে তা নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে।

শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দুর্বলতা, মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতি, প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা এবং শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতিকে ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বোর্ড কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি ও শ্রেণিকক্ষে অনীহাও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এত বড় বিপর্যয়ের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পাঠদান, শিক্ষকসংকট, মূল্যায়নপদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি—সবকিছুই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, এবার ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ১৬২ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফেল করেছে ৪৬ হাজার ১৭৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন।

গত বছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ১৩০ জন। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ২০১টি। পাসের হারের তুলনায় জিপিএ-৫-এর এই বড় পতন শিক্ষার্থীদের উচ্চ গ্রেড অর্জনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ইংরেজিতে বড় ধস, ফেল ৩৪ হাজারের বেশি

বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ইংরেজিতে। এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৯ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬৫ হাজার ৬৭৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ ফেল করেছে ৩৪ হাজার ১৭৭ জন।

অন্যদিকে বাংলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ বিষয়ে ফেল করেছে ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাংলা ও ইংরেজির পাসের হারের ব্যবধান ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পয়েন্ট।

একই শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ফল হলেও ইংরেজিতে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা ভাষা শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘ সময় ইংরেজি পড়ার পরও কেন শিক্ষার্থীদের বড় অংশ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, তার উত্তর খোঁজা জরুরি।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা আবশ্যিক বিষয়ে ৯৯ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮৩ হাজার ৬১৪ জন। আইসিটিতে একই সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৬, রসায়নে ৮৮ দশমিক ৩৫ এবং জীববিজ্ঞানে ৮৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে উচ্চতর গণিতে পাসের হার ৭০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

মানবিক বিভাগের অর্থনীতিতে পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৪, সমাজবিজ্ঞানে ৭৫ দশমিক ০১, যুক্তিবিদ্যায় ৭৪ দশমিক ০৮ এবং ইতিহাসে ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। পৌরনীতি ও সুশাসনে পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে পাস করেছে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৬, ব্যবসায় সংগঠনে ৮৩ দশমিক ৮৮ এবং ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমায় ৮৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

কিছু বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানে ৯৩ দশমিক ৩৮, ভূগোলে ৯৪ দশমিক ৬০, কৃষিশিক্ষায় ৯৫ দশমিক ৮২, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৯৬ দশমিক ৯১ এবং সামাজিক কর্মে ৯৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। খাদ্য ও পুষ্টি এবং গার্হস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন বিষয়ে পাসের হার শতভাগ হলেও এ দুটি বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র ৯ জন করে।

মুখস্থ বিদ্যায় ভরসা, প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নে বিপত্তি

ইংরেজিতে ফল খারাপ হওয়ার পেছনে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের ধরন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের বড় অংশে ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ থাকার পাশাপাশি সেগুলো বাক্যে প্রয়োগ করার দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে।

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে Grammar অংশে ছিল ৬০ নম্বর এবং Composition অংশে ৪০ নম্বর। Grammar-এর ১২টি প্রশ্নে Article, Preposition, Suitable Phrases/Words, Completing Sentences, Right Form of Verbs, Transformation, Narration, Pronoun Reference, Modifiers, Sentence Connectors, Synonym-Antonym ও Punctuation থেকে প্রশ্ন করা হয়।

প্রচলিত Article, Punctuation ও Transformation-এর পাশাপাশি Pronoun Reference, Modifiers, Narration এবং Sentence Connectors-এর মতো অংশেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে।

Pronoun Reference-এ বাক্যের অস্পষ্ট নির্দেশক শনাক্ত করে সংশোধন করতে হয়েছে। Modifiers-এর ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থ ও ব্যাকরণগত কাঠামো বুঝে সঠিক স্থানে Modifier বসানো প্রয়োজন হয়েছে। Narration-এ Reporting Verb, Pronoun, Tense ও বাক্যের গঠন পরিবর্তন করতে হয়েছে। Sentence Connectors-এর ক্ষেত্রে কারণ, ফলাফল, বিরোধ ও সংযোজনের সম্পর্ক বুঝে উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করতে হয়েছে।

শিক্ষকদের মতে, এসব প্রশ্নে নিয়ম মুখস্থ রাখার চেয়ে বাস্তব বাক্যে ব্যাকরণের প্রয়োগ জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে যারা কেবল প্রচলিত নিয়ম মুখস্থ করে প্রস্তুতি নিয়েছে, তারা সমস্যায় পড়েছে।

তবে প্রশ্নের ধরন প্রয়োগনির্ভর হওয়াই কি এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার কারণ? নাকি দীর্ঘদিনের পাঠদানপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনে প্রস্তুত করতে পারেনি? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মান—দুই দিকই বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞানে এগিয়ে, মানবিকে বড় বিপর্যয়

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বৈষম্য আরও স্পষ্ট। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের পাসের হার ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তিন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এই ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে বিভাগভিত্তিক ইংরেজির ফলাফল, শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকসংখ্যা ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল এতটা পিছিয়ে পড়ার পেছনে কোনো কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

পরিচিত বিষয়েও ইংরেজিতে লেখার দক্ষতার ঘাটতি

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের Composition অংশে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়গুলো খুব বেশি অপরিচিত ছিল না। Application Writing-এ কলেজের শ্রেণিকক্ষে Multimedia Facilities স্থাপনের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদন, Report Writing-এ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর Facebook-এর প্রভাব, Paragraph Writing-এ A Visit to a Book Fair এবং Composition Writing-এ The Importance of Tree Plantation বিষয়ে লিখতে হয়েছে।

বিষয়গুলো পরিচিত হলেও নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ, প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন, বাক্য গঠন ও ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি ছিল। অর্থাৎ বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকলেই ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ ছিল না; প্রয়োজন ছিল ইংরেজিতে ধারাবাহিকভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশের সক্ষমতা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে লেখার দক্ষতার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।

প্রশ্নপত্রে সম্পাদনাগত অসঙ্গতির অভিযোগ


প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে সম্পাদনাগত অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের তৃতীয় প্রশ্নের (g) নম্বর বাক্যে ‘There live a very clever fox’ মুদ্রিত হয়েছে বলে দেখা যায়।

মূল প্রশ্নপত্রেও বাক্যটি এভাবে মুদ্রিত হয়ে থাকলে তা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। বাক্যটির গঠন ও ব্যাকরণগত শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ ধরনের একটি অসঙ্গতি সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলার মতো তথ্য নেই।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে যথাযথ যাচাই হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মোবাইল আসক্তি, ক্লাসে অনীহা—দায় কার?

ফল খারাপ হওয়ার পেছনে শুধু ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নকে দায়ী করছেন না সংশ্লিষ্টরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরীক্ষার সময়সূচিতে বিঘ্ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করতে না পারার মতো বিষয়ও সামনে এসেছে।

এবার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ঢালাও নম্বর দেওয়ার সুযোগ কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবক সাদেক আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে সামগ্রিক ফলাফল দেখে তিনি হতাশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষমুখী নয়, তারা বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত। মোবাইল ফোনে বেশি সময় দেওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমেছে।

খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, মূল্যায়নের নির্দেশিকা আগেই তৈরি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকেরা যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন। এ কারণেও পাসের হার কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তিকে দায়ী করলেই শিক্ষাব্যবস্থার দায় শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত ক্লাস হয়েছে কি না, শিক্ষকসংকট কতটা ছিল, সিলেবাস সময়মতো শেষ হয়েছে কি না এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী ভূমিকা রেখেছে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং ইংরেজিতে ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা তাই কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভাষা শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং মূল্যায়নব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি বড় উপলক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে এইচএসসিতে ১৫ বছরের সর্বনিম্ন পাস, ইংরেজিতেই ফেল ৩৪ হাজার

মোবাইলে আসক্তি, ক্লাসে অনীহা;১৫ বছরে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফল এবার বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দেখেছে বোর্ডটি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইংরেজিতে—এ বিষয়ে ফেল করেছে ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। বিভাগভিত্তিক ফলেও স্পষ্ট বৈষম্য; বিজ্ঞানে পাসের হার যেখানে ৭৪ শতাংশের বেশি, মানবিকে তা নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে।

শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দুর্বলতা, মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতি, প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা এবং শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতিকে ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বোর্ড কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি ও শ্রেণিকক্ষে অনীহাও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এত বড় বিপর্যয়ের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পাঠদান, শিক্ষকসংকট, মূল্যায়নপদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি—সবকিছুই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, এবার ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ১৬২ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফেল করেছে ৪৬ হাজার ১৭৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন।

গত বছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ১৩০ জন। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ২০১টি। পাসের হারের তুলনায় জিপিএ-৫-এর এই বড় পতন শিক্ষার্থীদের উচ্চ গ্রেড অর্জনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ইংরেজিতে বড় ধস, ফেল ৩৪ হাজারের বেশি

বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ইংরেজিতে। এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৯ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬৫ হাজার ৬৭৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ ফেল করেছে ৩৪ হাজার ১৭৭ জন।

অন্যদিকে বাংলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ বিষয়ে ফেল করেছে ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাংলা ও ইংরেজির পাসের হারের ব্যবধান ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পয়েন্ট।

একই শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ফল হলেও ইংরেজিতে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা ভাষা শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘ সময় ইংরেজি পড়ার পরও কেন শিক্ষার্থীদের বড় অংশ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, তার উত্তর খোঁজা জরুরি।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা আবশ্যিক বিষয়ে ৯৯ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮৩ হাজার ৬১৪ জন। আইসিটিতে একই সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৬, রসায়নে ৮৮ দশমিক ৩৫ এবং জীববিজ্ঞানে ৮৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে উচ্চতর গণিতে পাসের হার ৭০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

মানবিক বিভাগের অর্থনীতিতে পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৪, সমাজবিজ্ঞানে ৭৫ দশমিক ০১, যুক্তিবিদ্যায় ৭৪ দশমিক ০৮ এবং ইতিহাসে ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। পৌরনীতি ও সুশাসনে পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে পাস করেছে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৬, ব্যবসায় সংগঠনে ৮৩ দশমিক ৮৮ এবং ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমায় ৮৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

কিছু বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানে ৯৩ দশমিক ৩৮, ভূগোলে ৯৪ দশমিক ৬০, কৃষিশিক্ষায় ৯৫ দশমিক ৮২, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৯৬ দশমিক ৯১ এবং সামাজিক কর্মে ৯৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। খাদ্য ও পুষ্টি এবং গার্হস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন বিষয়ে পাসের হার শতভাগ হলেও এ দুটি বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র ৯ জন করে।

মুখস্থ বিদ্যায় ভরসা, প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নে বিপত্তি

ইংরেজিতে ফল খারাপ হওয়ার পেছনে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের ধরন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের বড় অংশে ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ থাকার পাশাপাশি সেগুলো বাক্যে প্রয়োগ করার দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে।

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে Grammar অংশে ছিল ৬০ নম্বর এবং Composition অংশে ৪০ নম্বর। Grammar-এর ১২টি প্রশ্নে Article, Preposition, Suitable Phrases/Words, Completing Sentences, Right Form of Verbs, Transformation, Narration, Pronoun Reference, Modifiers, Sentence Connectors, Synonym-Antonym ও Punctuation থেকে প্রশ্ন করা হয়।

প্রচলিত Article, Punctuation ও Transformation-এর পাশাপাশি Pronoun Reference, Modifiers, Narration এবং Sentence Connectors-এর মতো অংশেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে।

Pronoun Reference-এ বাক্যের অস্পষ্ট নির্দেশক শনাক্ত করে সংশোধন করতে হয়েছে। Modifiers-এর ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থ ও ব্যাকরণগত কাঠামো বুঝে সঠিক স্থানে Modifier বসানো প্রয়োজন হয়েছে। Narration-এ Reporting Verb, Pronoun, Tense ও বাক্যের গঠন পরিবর্তন করতে হয়েছে। Sentence Connectors-এর ক্ষেত্রে কারণ, ফলাফল, বিরোধ ও সংযোজনের সম্পর্ক বুঝে উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করতে হয়েছে।

শিক্ষকদের মতে, এসব প্রশ্নে নিয়ম মুখস্থ রাখার চেয়ে বাস্তব বাক্যে ব্যাকরণের প্রয়োগ জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে যারা কেবল প্রচলিত নিয়ম মুখস্থ করে প্রস্তুতি নিয়েছে, তারা সমস্যায় পড়েছে।

তবে প্রশ্নের ধরন প্রয়োগনির্ভর হওয়াই কি এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার কারণ? নাকি দীর্ঘদিনের পাঠদানপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনে প্রস্তুত করতে পারেনি? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মান—দুই দিকই বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞানে এগিয়ে, মানবিকে বড় বিপর্যয়

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বৈষম্য আরও স্পষ্ট। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের পাসের হার ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তিন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এই ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে বিভাগভিত্তিক ইংরেজির ফলাফল, শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকসংখ্যা ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল এতটা পিছিয়ে পড়ার পেছনে কোনো কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

পরিচিত বিষয়েও ইংরেজিতে লেখার দক্ষতার ঘাটতি

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের Composition অংশে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়গুলো খুব বেশি অপরিচিত ছিল না। Application Writing-এ কলেজের শ্রেণিকক্ষে Multimedia Facilities স্থাপনের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদন, Report Writing-এ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর Facebook-এর প্রভাব, Paragraph Writing-এ A Visit to a Book Fair এবং Composition Writing-এ The Importance of Tree Plantation বিষয়ে লিখতে হয়েছে।

বিষয়গুলো পরিচিত হলেও নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ, প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন, বাক্য গঠন ও ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি ছিল। অর্থাৎ বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকলেই ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ ছিল না; প্রয়োজন ছিল ইংরেজিতে ধারাবাহিকভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশের সক্ষমতা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে লেখার দক্ষতার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।

প্রশ্নপত্রে সম্পাদনাগত অসঙ্গতির অভিযোগ


প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে সম্পাদনাগত অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের তৃতীয় প্রশ্নের (g) নম্বর বাক্যে ‘There live a very clever fox’ মুদ্রিত হয়েছে বলে দেখা যায়।

মূল প্রশ্নপত্রেও বাক্যটি এভাবে মুদ্রিত হয়ে থাকলে তা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। বাক্যটির গঠন ও ব্যাকরণগত শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ ধরনের একটি অসঙ্গতি সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলার মতো তথ্য নেই।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে যথাযথ যাচাই হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মোবাইল আসক্তি, ক্লাসে অনীহা—দায় কার?

ফল খারাপ হওয়ার পেছনে শুধু ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নকে দায়ী করছেন না সংশ্লিষ্টরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরীক্ষার সময়সূচিতে বিঘ্ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করতে না পারার মতো বিষয়ও সামনে এসেছে।

এবার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ঢালাও নম্বর দেওয়ার সুযোগ কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবক সাদেক আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে সামগ্রিক ফলাফল দেখে তিনি হতাশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষমুখী নয়, তারা বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত। মোবাইল ফোনে বেশি সময় দেওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমেছে।

খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, মূল্যায়নের নির্দেশিকা আগেই তৈরি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকেরা যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন। এ কারণেও পাসের হার কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তিকে দায়ী করলেই শিক্ষাব্যবস্থার দায় শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত ক্লাস হয়েছে কি না, শিক্ষকসংকট কতটা ছিল, সিলেবাস সময়মতো শেষ হয়েছে কি না এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী ভূমিকা রেখেছে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং ইংরেজিতে ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা তাই কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভাষা শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং মূল্যায়নব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি বড় উপলক্ষ।