নাম-পরিচয় বদলে জমি বিক্রি, ওয়ারিশ দাবি ও পাসপোর্ট পরিবর্তনের চেষ্টা
এনআইডি সংশোধনের আড়ালে সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার জালিয়াতি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন ধরনের পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের ভুল সংশোধনের বৈধ সুযোগ ব্যবহার করে কেউ কেউ সম্পত্তি বিক্রি, ভুয়া উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা, পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন এমনকি নাগরিকত্বসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব জালিয়াতির সঙ্গে শুধু আবেদনকারীরাই নন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে নাগরিক সেবা সহজ করার পাশাপাশি পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি এনআইডি সংশোধনের আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন। অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই অনুমোদন পায়নি। তবে একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করায় এই সংখ্যা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীর সংখ্যা নির্দেশ করে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, একটি নাগরিকের পরিচয়পত্রের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ কীভাবে সম্পত্তির মালিকানা, উত্তরাধিকার কিংবা আন্তর্জাতিক ভ্রমণসংক্রান্ত জালিয়াতির হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে? আর এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ইসির যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এনআইডি সংশোধনের এই অপব্যবহারের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, জালিয়াতির অভিযোগে ইসির অনেক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে, আবার কাউকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কমিশন এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে না।
পরিচয় বদলে সম্পত্তি বিক্রি, ওয়ারিশ হওয়ার চেষ্টা
এনআইডির তথ্য পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত জালিয়াতি। সিইসির বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ কেউ নাম পরিবর্তন করে সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। আবার কেউ উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করেছেন।
এ ধরনের জালিয়াতির প্রভাব শুধু এনআইডির তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার পরিচয় কিংবা জন্মতারিখ পরিবর্তন হলে জমির মালিকানা, পারিবারিক উত্তরাধিকার, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি নথিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জমি ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হলে প্রকৃত মালিক বা বৈধ ওয়ারিশদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা এবং বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগও সামনে এসেছে। সিইসি বিদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয়পত্র তৈরির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।
এ কারণে কমিশন এখন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে এই সতর্কতার ফলে প্রকৃত ভুল সংশোধন করতে আসা নাগরিকদেরও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বয়সের অসংগতি, একাধিক জন্মসনদে জটিলতা
এনআইডি সংশোধনের আবেদনে যেসব অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বয়সের অস্বাভাবিক ব্যবধান, একাধিক জন্মনিবন্ধন এবং শিক্ষাগত সনদের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের অমিল।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো কোনো আবেদনে বাবা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান মাত্র তিন বছর, আবার মা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান দুই থেকে তিন বছর দেখানো হয়েছে। কারও কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন কিংবা শিক্ষাগত সনদ রয়েছে। এসব নথির মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্ম ১৯৯৭ সালে এবং ২০১৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ভোটার হয়েছেন। পরে তিনি জন্মসাল ২০০২ করার আবেদন করেছেন। এতে ২০১৫ সালে তাঁর বয়স দাঁড়ায় ১৩ বছর। অথচ ওই সময় ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ছিল ১৮ বছর।
এ ধরনের সাংঘর্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হলে আগের ভোটার নিবন্ধনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
সংশোধনের আবেদনকারীদের কেউ কেউ বিদেশে যাওয়ার সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা উল্লেখ করে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত অনুমোদন চান। কিন্তু ইসির কর্মকর্তাদের মতে, মানবিক বিবেচনা থাকলেও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিকল্প নেই। কারণ একটি ভুল সংশোধনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
যাচাইয়ের নামে বাড়ছে প্রকৃত আবেদনকারীদের ভোগান্তি
জালিয়াতি ঠেকাতে ইসির কঠোর অবস্থানের বিপরীতে প্রকৃত তথ্য সংশোধন করতে আসা নাগরিকদের ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে। যশোরের কেশপুরের হরিদাশ কর্মকার (ছদ্মনাম) এর একটি উদাহরণ।
তিনি জানান, ছয় মাস আগে স্ত্রীর নাম সংশোধনের আবেদন করেন। তখন ইসি থেকে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রীর নামে দুটি জন্মনিবন্ধন রয়েছে। একটি বাতিল করে এলে সংশোধন করা হবে। পরে একটি জন্মনিবন্ধন বাতিল করে পুনরায় যোগাযোগ করলে চাওয়া হয় স্ত্রীর ভাই-বোনের প্রত্যয়নপত্র, বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আরও বেশ কিছু নথি। এসব কাগজ সংগ্রহ করতে না পারায় এখনো সংশোধন সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।
এই অভিজ্ঞতা এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ার আরেকটি বাস্তব সংকট সামনে এনেছে। জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর যাচাই প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য তা নতুন ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ, যাঁদের পক্ষে পুরোনো নথি সংগ্রহ কিংবা পরিবারের সদস্যদের প্রত্যয়নপত্র জোগাড় করা কঠিন, তাঁরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ সাধারণ সংশোধন উপজেলা পর্যায়েই সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে নাম, পিতা-মাতার পরিচয় ও জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য একসঙ্গে পরিবর্তনের আবেদনগুলো উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়। এসব ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের এনআইডির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়।
বিশেষ করে পিতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু আবেদনকারীর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। তাঁর ভাই-বোনদের পরিচয়পত্রে পিতার নাম কী রয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। শুধু হলফনামার ভিত্তিতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন অনুমোদন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কমিশন।
বাতিল ১৩ লাখ ৫৫ হাজার আবেদন, তবে প্রকৃত সংখ্যা কত?
এনআইডি সংশোধনের আবেদন বাতিলের পরিসংখ্যানও কমিশনের সামনে থাকা জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি।
অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাতিল হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি এতসংখ্যক নাগরিকের আবেদন প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তি একই বিষয়ে চার-পাঁচবার আবেদন করতে পারেন। আবার একটি আবেদনে একাধিক তথ্য সংশোধনের অনুরোধ থাকলে একটি তথ্য সংশোধন হলেও অন্যটি বাতিল হতে পারে। কোনো কোনো আবেদন ছয়-সাতবার পর্যন্ত বাতিল হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলা থেকে মহাপরিচালক পর্যায়ে আবেদন বাতিল হওয়ার পরও সচিব পর্যায়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে। ফলে বাতিলের মোট সংখ্যা দিয়ে প্রকৃত আবেদনকারী কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।
অন্যদিকে সিইসির ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জন্মসনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ কিংবা নির্ভরযোগ্য নথি না থাকায় অনেক আবেদন অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয় না। একই ব্যক্তির একাধিক জন্মসনদ বা শিক্ষাগত সনদ থাকলে কোনটিকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও যাচাইয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে বাড়তি সতর্কতা
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সমস্যাও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিদেশে অবস্থান, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের অমিল এবং দালালের মাধ্যমে বিদেশযাত্রার কারণে অনেকের নথিতে অসংগতি তৈরি হচ্ছে।
সিইসি জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালু করা হয়েছে। যাঁদের কাগজপত্র সঠিক, তাঁদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে কমিশন।
তবে বিদেশে যাওয়ার সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের অমিল থাকলে তা যাচাই করতে হচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের কাজ করার বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন সিইসি।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের মতে, অনেকেই প্রথমে এনআইডি করলেও পরে জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে পাসপোর্ট তৈরি করেন। ফলে দুই নথিতে তথ্যের অমিল দেখা দেয়। আবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত থাকায় কেউ কেউ জন্মতারিখ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়লে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের আবেদনও করেন।
এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে, একজন নাগরিকের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সরকারি নথিতে একই রকম না থাকলে তার বৈধতা যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিজিটাল পরিচয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের নথি নয়। জমি নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেনসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে পরিচয়পত্রের একটি তথ্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রভাবও বহুমাত্রিক।
এ কারণে এনআইডি সংশোধনে ইসির সতর্কতা যৌক্তিক হলেও সেই সতর্কতা যেন প্রকৃত নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। জালিয়াতির অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়সীমা নির্ধারণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে কোন ধরনের সংশোধনে কী কী নথি প্রয়োজন, কোন পর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তি হবে এবং আবেদন বাতিল হলে কীভাবে আপিল করতে হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতিতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত ব্যবস্থার তথ্যও জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, এনআইডি সংশোধনের সুযোগ একদিকে নাগরিকদের ভুল তথ্য সংশোধনের অধিকার নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে এর অপব্যবহার সম্পত্তি, উত্তরাধিকার ও জাতীয় পরিচয়ের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রকৃত আবেদনকারীদের হয়রানিমুক্ত ও সময়সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগই সাধারণ নাগরিকের জন্য নতুন প্রশাসনিক ভোগান্তিতে পরিণত হতে পারে।
























