নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
সাবেক নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত কমিটি। নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ দুটি হলো—অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং রূঢ় ও অসদাচরণ। বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানিয়েছেন, এই দুই ধরনের আচরণই যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
তদন্তে দুই অভিযোগের প্রমাণ
মাহিন এম রহমান জানান, জাহানারা আলম অভিযোগ দায়েরের পরপরই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এগুলো হলো ‘হাই-হ্যান্ডেড রুড বিহেভিয়ার’ বা রূঢ় ও অসদাচরণ এবং ‘ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট টাচিং’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ। তবে জাহানারা আলম আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা তদন্ত কমিটি পায়নি।
তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মঞ্জুরুল আলমকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে আর অংশ নিতে পারবেন না তিনি।
গোপন রাখা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন
তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না করার ব্যাখ্যায় বিসিবির আইনজীবী বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের সময় ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল তথ্য উঠে আসে। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান ও গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তদন্তের উপকরণ ও প্রতিবেদন গোপনীয় হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালাটি গ্রহণ ও প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিসিবির ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডে কর্মরত নারীরাও যেকোনো সময় অভিযোগ জানাতে পারবেন।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট খারিজ
মঞ্জুরুল আলমের আজীবন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা দুটি পৃথক রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন বলেও জানান মাহিন এম রহমান। তিনি বলেন, ওই দুই মামলায় বিসিবির আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন। শুনানির সময় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মঞ্জুরুল আলমের করা রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
এ ছাড়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে একজন নারী ক্রীড়াবিদের করা আরেকটি রিট আবেদন হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় বিসিবিও পক্ষভুক্ত। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনসহ এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলো আদালতকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
ফৌজদারি মামলায় সহায়তা দেবে বিসিবি
মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী। এ বিষয়ে জাহানারা আলমকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি মামলা করতে চাইলে বিসিবি প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেবে।
মাহিন এম রহমান বলেন, এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই অভিযোগকারী হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। জাহানারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলে বোর্ড তার পাশে থাকবে।


























