মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিকভাবে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ, দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের
নির্বাচনের আগে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আসন ছিল। অন্যদিকে, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ২১২টি।
নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনাসহ রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি। ফলে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিতে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিকা আরও বাড়বে।
চাপে পড়তে পারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন বিষয়ে শুনানি আয়োজন, সমন জারি এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবেন।
তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা থাকায় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। সিনেটে ফিলিবাস্টার প্রথাও আইন পাসের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে আগামী দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফল মেনে নিয়ে একসঙ্গে কাজের বার্তা ট্রাম্পের
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দাবি, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের ফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
























