ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সবজিতে সামান্য স্বস্তি, মাছ-মাংস ও নিত্যপণ্যে চড়া দাম পুরান ঢাকায় মেট্রোরেলের ছোঁয়া, গাবতলী থেকে যাবে নারায়ণগঞ্জ ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই নেপালে মহাবিপর্যয়: হিমবাহ ধস থেকে কীভাবে নামল মৃত্যুর ঢল? বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ঢাকার দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আস্থার প্রতিফলন দেখছেন টাঙ্গাইলবাসী ৬৪ জেলার দেখভালে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, ভাগ হলো দায়িত্ব মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, যশোরে চাঞ্চল্য ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

পুরান ঢাকায় মেট্রোরেলের ছোঁয়া, গাবতলী থেকে যাবে নারায়ণগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর যানজট কমাতে ও পুরান ঢাকাকে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে নেওয়া হচ্ছে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প—এমআরটি লাইন-২। গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে থাকবে ২৪টি স্টেশন। কোথাও মেট্রোরেল চলবে মাটির নিচ দিয়ে, আবার কোথাও থাকবে উড়ালপথ।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক নীতিগতভাবে অর্থায়নে সম্মতি জানিয়েছে। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

পুরান ঢাকার বুক চিরে যাবে মেট্রোরেল

এমআরটি-২-এর প্রস্তাবিত রুটে গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার হয়ে ডেমরা পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এরপর রুটটি নারায়ণগঞ্জের দিকে সম্প্রসারিত হয়ে তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

যুক্ত হবে ঢাকার অন্য মেট্রোরেলও

নতুন এই লাইনটি শুধু পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করবে না, বরং ঢাকার অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবতলী অংশে এমআরটি-৫ (উত্তর ও দক্ষিণ), কমলাপুরে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সংযোগ থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে যাত্রীরা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে সহজেই যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, বড় ভরসা বৈদেশিক ঋণ

এমআরটি-২ প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনাধীন। কমিশনের মতামতের পর এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে। এরপর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহ এবং প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকল্পটিতে অর্থায়নের নীতিগত সম্মতির কথাও জানানো হয়েছে।

পুরান ঢাকার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এমআরটি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর হতে পারে। কারণ প্রস্তাবিত রুটে রয়েছে রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরান ঢাকা। একই সঙ্গে এটি গাবতলী, কমলাপুর, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে।

পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত এই মেট্রোরেল লাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাস্তবায়ন হলে এমআরটি লাইন-২ শুধু নতুন একটি মেট্রোরেল রুট হবে না; এটি রাজধানীর পুরান অংশ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্ককে এক সুতোয় গাঁথার একটি বড় উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পুরান ঢাকায় মেট্রোরেলের ছোঁয়া, গাবতলী থেকে যাবে নারায়ণগঞ্জ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর যানজট কমাতে ও পুরান ঢাকাকে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে নেওয়া হচ্ছে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প—এমআরটি লাইন-২। গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে থাকবে ২৪টি স্টেশন। কোথাও মেট্রোরেল চলবে মাটির নিচ দিয়ে, আবার কোথাও থাকবে উড়ালপথ।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক নীতিগতভাবে অর্থায়নে সম্মতি জানিয়েছে। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

পুরান ঢাকার বুক চিরে যাবে মেট্রোরেল

এমআরটি-২-এর প্রস্তাবিত রুটে গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার হয়ে ডেমরা পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এরপর রুটটি নারায়ণগঞ্জের দিকে সম্প্রসারিত হয়ে তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

যুক্ত হবে ঢাকার অন্য মেট্রোরেলও

নতুন এই লাইনটি শুধু পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করবে না, বরং ঢাকার অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবতলী অংশে এমআরটি-৫ (উত্তর ও দক্ষিণ), কমলাপুরে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সংযোগ থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে যাত্রীরা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে সহজেই যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, বড় ভরসা বৈদেশিক ঋণ

এমআরটি-২ প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনাধীন। কমিশনের মতামতের পর এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে। এরপর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহ এবং প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকল্পটিতে অর্থায়নের নীতিগত সম্মতির কথাও জানানো হয়েছে।

পুরান ঢাকার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এমআরটি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর হতে পারে। কারণ প্রস্তাবিত রুটে রয়েছে রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরান ঢাকা। একই সঙ্গে এটি গাবতলী, কমলাপুর, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে।

পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত এই মেট্রোরেল লাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাস্তবায়ন হলে এমআরটি লাইন-২ শুধু নতুন একটি মেট্রোরেল রুট হবে না; এটি রাজধানীর পুরান অংশ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্ককে এক সুতোয় গাঁথার একটি বড় উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।