ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক প্রয়াত শাজাহান সিরাজের স্ত্রী ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য রাবেয়া সিরাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী (আরিফ) ও মো. জনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহযোগিতা ও অবদান ছাড়া শাহজাহান সিরাজ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। তাঁর সহযোগিতায় সাত একরের বেশি জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সুবিশাল খেলার মাঠসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

নিজ পরিবারের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে তাঁর মায়ের গহনা বিক্রির অর্থ দিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এ কারণে কলেজটির প্রতি তাঁর আবেগ, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অনেক বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত সরকারের আমলে কলেজটি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে দাবি করে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, দীর্ঘ সময়ে কলেজটির জন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। তাঁর দাবি, বাবার অনুরোধে তিনি কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও একাধিকবার তাঁর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কলেজে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

বাবার নামে কলেজের নামকরণ নিয়েও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নামকরণের জন্য প্রায় ছয় বছর সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আইনি জয় পাওয়ার পরও কলেজের গেটে নামের ফলক যথাযথভাবে লাগাতে দেওয়া হয়নি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক প্রয়াত শাজাহান সিরাজের স্ত্রী ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য রাবেয়া সিরাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী (আরিফ) ও মো. জনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহযোগিতা ও অবদান ছাড়া শাহজাহান সিরাজ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। তাঁর সহযোগিতায় সাত একরের বেশি জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সুবিশাল খেলার মাঠসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

নিজ পরিবারের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে তাঁর মায়ের গহনা বিক্রির অর্থ দিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এ কারণে কলেজটির প্রতি তাঁর আবেগ, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অনেক বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত সরকারের আমলে কলেজটি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে দাবি করে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, দীর্ঘ সময়ে কলেজটির জন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। তাঁর দাবি, বাবার অনুরোধে তিনি কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও একাধিকবার তাঁর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কলেজে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

বাবার নামে কলেজের নামকরণ নিয়েও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নামকরণের জন্য প্রায় ছয় বছর সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আইনি জয় পাওয়ার পরও কলেজের গেটে নামের ফলক যথাযথভাবে লাগাতে দেওয়া হয়নি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।