প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, ২০ শতাংশ কাজেই থমকে সিলেট-ছাতক রেলপথ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
চার বছর ধরে বন্ধ সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে নেওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। এতে দীর্ঘদিন পর রেল চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকা সুনামগঞ্জ ও ছাতকের মানুষের হতাশা আরও বেড়েছে।
প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট থেকে ছাতক বাজার রেলপথটি ১৯৫৪ সালে নির্মাণ করা হয়। একসময় এ পথে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতে রেলপথটি ব্যবহার করতেন।
তবে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে এ পথে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে রেল চলাচল। দীর্ঘদিন রেলপথ অচল থাকায় বিভিন্ন স্থানের মূল্যবান স্লিপার ও লোহার পাতও চুরি হয়েছে।
২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ এগিয়েছে ২০ শতাংশ
রেলপথটি পুনর্বাসনে ২০২৫ সালে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে প্রকল্পটি নেওয়া হয়।
জিওবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় অনুমোদন পায়। পরে কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১৭ কোটি টাকা হলেও ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করা হয় প্রায় ১৯৯ কোটি টাকায়।
প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সার্বিক কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ।
পাইলিংয়ের বেশির ভাগ কাজ শেষ
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় মোট ৯৬টি পাইলিং পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে অন্যান্য কাজের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের পিছিয়ে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সুনামগঞ্জ ও ছাতকের বাসিন্দারা দ্রুত কাজ শেষ করে রেল চলাচল পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে পুরোনো রেলপথটি দ্রুত সচল হবে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মাত্র এক-পঞ্চমাংশ কাজ শেষ হওয়ায় সেই প্রত্যাশা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।




















