নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগ, নিখোঁজ ৪৬৬ বিদেশি পর্যটক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেপালের রসুয়া জেলায় এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি দেশের বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৫টি মরদেহ।
নেপালি পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি। বিদেশি নিখোঁজদের মধ্যে ৫৪ জন মার্কিন, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ভারত ও নেপালের সীমান্তসংলগ্ন মানসারোবরের পথে ছিলেন।
বুধবার ভোরে কাঠমান্ডুর উত্তরে রসুয়া জেলায় দুর্যোগটি আঘাত হানে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর তুষারধস থেকে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
দুর্যোগে রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু, যোগাযোগব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও ৪৪ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন বন্যাদুর্গতকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাইলুং গ্রাম থেকে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ১৫টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
নেপালের পাশাপাশি চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বতেও দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের খবর জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরং এলাকায় ভূমিধসে তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রস্তুত রেখেছে। সীমান্তবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চীনের বিমানবাহিনী ড্রোনও ব্যবহার করছে।
ভারতেও বন্যার সতর্কতা
নেপালের দক্ষিণে ভারতের বিহার রাজ্যেও সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গণ্ডক নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ পর্যবেক্ষণ, রাতের টহল এবং জরুরি সেবাদল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় রেড ক্রস সম্ভাব্য তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিখোঁজ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকও
আকস্মিক বন্যার পর আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁরা ওই এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজে ছিলেন। আরও ১০ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক সেখানে আটকা পড়েছেন এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে নেপাল সরকার একটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে।
এদিকে নেপালে কর্মরত চীনা ব্যবসায়ী ইয়ে লিয়াং জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাতটি কনটেইনার ট্রাক ছিল। ট্রাকগুলোতে নেপালি কর্মীরা কাজ করছিলেন। তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই আকস্মিক দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে।























